সৌন্দর্যের ময়না তদন্ত

0
3

সৌন্দর্যের ময়না তদন্ত

সৃষ্টির শুরু থেকে যুগে যুগে মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে ছুটে চলছে। এই চলার মুহূর্তে সহজাত ভাবে সে সুন্দর পথটাকেই বেছে নেয়। তবে এই সুন্দর বা সৌন্দর্য একেক জনের কাছে একেক মাত্রায় ধরা দেয়।

রোম্যান্টিক কবি জন কিটস যে সৌন্দর্য সত্যের মাঝে খুঁজে পেয়েছেন, পুরুষ সে সৌন্দর্যকেই খুঁজে পায় নারীর মাঝে। আবার একটা নারীর কাছেও আরেকটা নারীই সুন্দর বলে প্রতীয়মান হয়।

সে নারীর সৌন্দর্যের মাত্রা পরিমাপের জন্যই আবার রয়েছে মিস ওয়ার্ল্ড, মিস ইউনিভার্স কিংবা লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার এর মত রকমারি প্রতিযোগিতা। কেউ গুরুত্ব দেয় বাহ্যিক অবয়বকে আবার কেউ অন্তরের ব্যক্তিত্বটাকে।

সমাজের দশটা লোক যেখানে গায়ের রং কে প্রাধান্য দিয়ে সৌন্দর্যের মানদণ্ড ঠিক করে নেয়, সেখানে এরিক মোর্লের মিস ওয়ার্ল্ড গুরুত্ব দেয় মেধা ও রূপকে। মিস ইউনিভার্স আবার গুরুত্ব দেয় মেধার পাশাপাশি মডেলিং এবং অভিনয়ের দক্ষতাকে।

অন্যদিকে ইসলাম সেই নারীকেই সৌন্দর্যের শিখরে স্থান দেয় যখন সে থাকে পর্দা কিংবা শালীনতার মাঝে। এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন মাজীদের সূরা তীন এর ৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সবচেয়ে সুন্দরতম কাঠামোতে।

অথচ শ্বেতাঙ্গ বনাম কৃষ্ণাঙ্গের রেষারেষি আজও চলছে। সুরা লাইল এর আয়াত ৫-এ সৌন্দর্য কে খুঁজতে বলা হয়েছে দান এবং সাবধানতার মাঝে। আরও বলা হয়েছে সুন্দরকে পেতে হলে খরচ করতে হয় অর্থাৎ তার প্রতিদান দিয়েই তা অর্জন করে নিতে হয়। কিন্তু আমরা আশরাফুল মাখলুকাত সুন্দর কে অর্জন করি নষ্ট করার জন্যে।

আমরা ফুল ছিঁড়ার মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রমাণ করি যে পথে চলছিলাম সে পথেরই বিনাশকারী হিসেবে।

লেখিকা: তাছকিয়া আক্তার শিক্ষার্থী, ব্যবসায় প্রশাসন, শাবিপ্রবি সিলেট।