৭১’র নারকীয়তাও হার মেনেছে মৌলবাদীদের কাছে : কে এম খালিদ

0
2

সময়েরপাতা : ১৯৭১ সালে যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেভাবেই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।https://wp.me/p6L1P2-laT

আজ বুধবার (৩১ মার্চ) বিকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শনে এসে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে মাদরাসাছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে একটি দেশের বড় শক্তি। সেজন্য তারা বারবার সংস্কৃতির ওপর হামলা চালায়। শিল্প-সংস্কৃতির ওপর যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান অবদান রাখতে পারে, সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর বারবার হামলা চালায় তারা। শুধু হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে সব।

স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী খালিদ বলেন, বিশ্বাস করা যায় না এমন ধ্বংসযজ্ঞ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তারা চালিয়েছে। যেসব স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে, আমরা সেগুলো পুনরায় নির্মাণ করব। যারা এ ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে জানান, হেফাজতের কাঁধে বন্দুক রেখেই জামায়াত বিএনপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ বিপুল ধ্বংসযজ্ঞে মেতেছে যা আমাদের ১৯৭১ সালের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঠিক একইভাবে পাকিস্তানি হায়েনাদের কাঁধে ভর করে সাধারন মানুষের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছিল জামায়াত।

উল্লেখ্য, আজ বুধবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাসমূহ পরিদর্শন করতে মাহবুব উল আলম হানিফের নেতৃত্বে আসেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন শেষে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে হানিফ এসব কথা বলেন।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন – কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান।

মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের যে সকল সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরে যে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে তা পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এসব হামলায় যারাই জড়িত আছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন করে স্থানীয় জনসাধারনের দুর্ভোগ এবং কষ্টের কথা জেনেছি। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে দেখছে সরকার। আমরা আমাদের দলীয় সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক প্রতিবেদন জমা দেবো।

পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন সহিংসতার সময় কেন নিরব ভূমিকায় ছিলেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, সেটিও আমরা অবশ্যই খুঁজে বের করবো যে কেনো তারা জনগনের জানমাল ও সরকারি স্থাপনা রক্ষায় এগিয়ে আসেন নি। তাদের স্ব-স্ব দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। সর্বোপরি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতায় জড়িত কাউকেই ছাড় দিতে আমরা নারাজ।

এসময় প্রেসক্লাব সহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়ে আশ্বস্ত করেন হানিফ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি- বেসরকারি দপ্তর ও আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘর এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার বর্ণনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন।

জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা এসময় সহিংসতার ঘটনায় জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সহ আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে তাদের অপসারণ চান এবং সহিংসতার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

এদিকে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ভাঙচুর ঘটনা পরিদর্শনে আসলে প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন প্রতিনিধি দলকে জানান, বিগত সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যেসব আন্দোলন হয়েছে কোনো আন্দোলনেই সাংবাদিক বা প্রেসক্লাবের উপর কোনো ধরনের হামলা হয়নি। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসার প্রতিবাদে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও হেফাজতের টানা তিনদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের হাত থেকে সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবও রক্ষা পায়নি। এসময় এই নজিরবিহীন হামলার সুষ্ঠু ও যথাযথ বিচার দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, প্রেসক্লাবে হেফাজতের তাণ্ডবে প্রায় এক ঘন্টা সংবাদকর্মীরা সবদিক থেকে অবরুদ্ধ ছিলো। এসময় জেলার ডিসি, এসপি ও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কাউকেই এগিয়ে আসতে দেখিনি। এমনকি তাদেরকে কল করে সহযোগিতা চেয়েও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার জন্যও প্রতিনিধি দলের কাছে অনুরোধ জানান এই সাংবাদিক নেতা।