১১ বছরেই বিয়ের পীরিতে, শরীরে দানা বেঁধেছে অনেক রোগ

0
8
আরাফাত রহমান, জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী:
 বয়স তখন ১১। শরীর স্বাস্থ্য একটু ভালো ছোটবেলা থেকেই। চেহারার গঠন ও ভালো। তখন থেকেই ছেলেপক্ষ আমাকে দেখতে আসে। কয়েকজন দেখতে আসার পরই ১১ বছর বয়সেই বাবা মা আমার বিয়ে দিয়ে দেয় ৩২ বছর বয়সী একটা লোকের সাথে। তখন থেকেই শিখেছি বাস্তবতা। ছোটবেলায় অনেক আদরের ছিলাম, বয়স বাড়ার সাথে সাথে হয়তো বোঝা হয়ে গেছি পরিবারের কাছে। তাই হয়তো এত অল্প বয়সেই শশুড়বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। অনেক ইচ্ছা ছিলো পড়াশোনা করবো, নিজের একটা পরিচয় বানাবো, বাবা মায়ের পাশে দাঁড়াবো৷ পড়াশোনায় ও ভালোই ছিলাম। কিন্তু পরিবারের চাপে পড়ে সব স্বপ্ন শেষ৷ বিয়ের আজ ৫ বছর হলো, বয়স এখন ১৬৷ আমার সমবয়সীরা সবাই স্কুলে যায়, এবার এস এস সি পরীক্ষা দিবে। সবাই নিজের ক্যারিয়ার গড়তে ব্যাস্ত, আর আমি নিজের বাবার বয়সী একজনের সংসার গোছাতে৷ শরীরে দানা বেধেছে ছোটবড় অনেক রোগ৷ কিন্তু কখনো কাওকে বুঝতে দেই না, হয়তো অভিমানে। অনেক কস্ট হয় কথাগুলো ভাবতে, কিন্তু সময়ের সাথে নিজেকে বুঝিয়েছি, এটাই হয়তো ভাগ্য৷ এখন আমার একটাই চাওয়া, পরকালে যেন একটু শান্তি পাই৷ হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমার এই আশাটা পুরন করবে। এই আশাতেই দিন কাটাই, আর এভাবেই হয়তো একদিন নিভে যাবে জীবনের প্রদীপ। তখন হয়তো আপসোস করার ও কেউ থাকবে না।
কি ভাবছেন? এটা কোনো গল্প বা উপন্যাসের অংশ?? না!!! এটা আমাদের রাজবাড়ী জেলার ই একটা অসহায় মেয়ের সংক্ষেপে বলা জীবনের কিছু কথা।