হিন্দু সম্প্রদায়ের জান-মাল রক্ষায় সরকার-রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে নিষ্ক্রিয়

0
0

সময়েরপাতা ডেস্ক:

সম্প্রতি নড়াইলের লোহাগড়ায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ তুলে ‘উত্তেজিত জনতা’র নামে একদল মানুষ স্থানীয় বাজারের দোকানপাট-বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে এবং একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করেছে। এসময় হামলা-ভাঙচুর এর পাশাপাশি নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এহেন জঘন্য সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। আমাদের কাছে এটা পরিস্কার যে, মূলত ক্ষমতাসীন দলের আস্কারা, পরিকল্পনা ও কলকাঠিতেই কিছু মানুষকে উত্তেজিত করে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনাগুলো ঘটে থাকে।

কিছুদিন আগেও পুলিশের উপস্থিতিতে নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল বিশ্বাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। সেসময় পুলিশের ভূমিকা ও প্রত্যক্ষ মদদই এই ঘটনা উস্কে দিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ‘অনুভূতির’ ধোঁয়া তুলে বারবারই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসত ভিটায় হামলা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছ। এতে করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসত-ভিটা দখল এবং ব্যবসা বাণিজ্য লুটপাট করতে পারছে সরকারী দলের লোকজন। ধর্মানুভূতিকে হাতিয়ার হিসেবে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে এইসব হামলা ও লুটপাট চালানো হচ্ছে।

আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের— তা সে যেই সম্প্রদায়েরই হোক না কেন— জান-মালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্র-সরকারের। নিরাপত্তা দেয়ার জন্যই তাদের পেছনে বছরে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ট্যাক্স খরচ করে এদেশের মানুষ। তাই রাষ্ট্র-সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, হামলাকারীদের সনাক্তপূর্বক আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করা। কিন্তু নড়াইল সহ অন্যান্য ঘটনায় বরাবরই রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি ঘটনায় সরকার-প্রশাসনের সক্রিয় নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ করা গেছে। সরকারের এই সক্রিয় নিষ্ক্রিয়তার ফলেই এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো ঘটতে পারছে।

বারবার কথিত ‘ধর্মানুভুতির’ ধোঁয়া তুলে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ‘উত্তেজিত জনতা’র নামে হামলে পড়া এবং হত্যাচেষ্টা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশের সকল ধর্মের সকল জাতির মানুষের এদেশের ওপর সমান হক রয়েছে। ইতিপূর্বেও বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে ‘উত্তেজিত জনতা’র নামে মব ভায়োলেন্সকে নিজেদের মাফিয়াতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে উস্কে দিয়েছে ক্ষমতাসীন বলয়ের প্রভাবশালী মানুষজন। আর এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলা করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার বদলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নীরবতা অথবা প্রছন্ন (ক্ষেত্রবিশেষে প্রত্যক্ষ) উস্কানিও বারবার দেখা গেছে।

আমরা এই বিবৃতির মাধ্যমে রাষ্ট্র-সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে হামলাকারীদের সনাক্তপূর্বক আইনের আওতায় আনা হোক এবং আদালতের মাধ্যমে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা সকল মানুষের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন এই রাষ্ট্রের জবাবদিহিতাহীন ক্ষমতাকাঠামো সংস্কার করে বাংলাদেশকে একটি উদার, গণতান্ত্রিক, পরমতসহিষ্ণু ও বহুত্ববাদী দেশ হিসেবে গড়ে তুলে বিজেপি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বাংলাদেশকে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’র দেশ হিসেবে পরিচিত করানোর দুরভিসন্ধি ও রাজনৈতিক কুমতলব ভেস্তে দেই এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলা, উষ্কানি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।