সেনাবাহিনীর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন বন্ধ করতে উপজাতি সন্ত্রাসীরা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে

0
5

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশাল অংশ জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম অর্জন বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে আছে।

আর এই সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী সেনাবাহিনীকে না নিতে জাতিসংঘে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট রিপোর্ট প্রদান করে আসছে!

সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে এদেশীয় ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী, পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশ গুলোর কূটনীতিক মহল, এনজিও, দাতাসংস্থা সহ মিশনারীরা। এজন্যই অর্থ যোগান দিচ্ছে ডেনমার্ক ও নরওয়ের পররাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের “ডনাক” নামের একটি প্রকল্প। ডনাক পার্বত্য চট্টগ্রামের সেনাবাহিনী সম্পর্কে ২০০১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সেনাবাহিনী নিয়ে বেশ কয়েকটি বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদীত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের তথ্য মতে জানা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাস্ট্রীয় বনজ সম্পদ রক্ষার জন্য এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোতায়েন করে বন বিভাগের উপর হামলার পর৷ এরপর সরকার বাধ্য হয়ে সমতল জেলাগুলা হতে বাঙালি পূর্ণবাসন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম।

উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে রাস্ট্রের নাগরিকদের উপর গণহত্যা পরিচালনা করেছে। সেনাবাহিনী সেখানে রাস্ট্রীয় বনজ সম্পদ রক্ষার লক্ষ্যে গিয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য গিয়েছে। শান্তি স্থাপনের জন্য আত্মত্যাগ স্বীকার করে কাজ করে আসছে। ১৯৯৭ সালের ২ -রা ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) সন্তুর সঙ্গে “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি” সাক্ষরিত হওয়ার মধ্য দিয়ে পাহাড়ে সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুন-গুম কিছুটা কমে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে সেনাবাহিনীর পূর্বেরকার ক্ষমতাবল নেই।

ক্ষমতাবল অনেকটাই অসাংবিধানিক পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চুক্তির কারণ ও আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের চলমান সঙ্কট নিরসন, অস্থিরতা বন্ধ করা, সংঘর্ষ অবসান করে পাহাড়ের শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেওয়া, এবং পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন সৃষ্টি করা। কিন্তু তার কোনটিরই প্রতিফলন ঘটেনি উপরোক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে। বরং অতিরঞ্জিত সুবিধা ভোগ করে উপজাতি সন্ত্রাসীরা রাস্ট্রের বিরুদ্ধে নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে বলা যায়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অবৈধ অস্ত্র পাহাড় থেকে সম্পূর্ণরূপে পরিহার হয়নি। পাহাড় এখনো অশান্ত, তাই ৪টি বিগ্রেড ও কিছুসংখ্যক সেনাবাহিনী চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিদ্যমান রয়েছে। চুক্তির সহযোগিতাকারি হিসেবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত থাকার কারণ সম্পর্কিত বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক অবস্থান, পটভূমি সহ বাস্তবতা তুলে ধরা উচিত পাঠকমহলের জ্ঞাতার্থে। সে প্রেক্ষিতে পাঠকমহলের জ্ঞাতার্থে কিছু বিষয় বিশদভাবে তুলে ধরছি বুঝার সুবিধার্থে। ১৯৭১ সালে সদ্য দেশ স্বাধীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে তথাকথিত শান্তিবাহিনী গঠন হয়!

অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন হওয়ার এই প্রশ্নের জবাব কে দিবে? যুদ্ধবিধ্বস্ত, ক্ষতবিক্ষত ও অগোছালো নব্য স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে কেন অস্ত্র হাতে নেওয়া হয়েছিল? একটি দেশকে পূর্ণগঠন হওয়ার সুযোগ না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে স্বায়ত্তশাসন দাবি এবং অস্ত্র হাতে নেওয়ার এটা কিসের ইঙ্গিত বহন করে? বঙ্গবন্ধুর ৭২ এর সংবিধানের বিরুদ্ধতা করে অস্ত্র হাতে নেওয়া অধিকারের জন্য ছিল না। এর পেছনে ছিল অন্য নৈপুণ্য। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল: উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে রাস্ট্রীয় স্থাপনা বন বিভাগের উপর হামলা শুরু করে ১৯৭৫ সালে।

তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী ছিল না। বাঙালিও ছিল না। তার পরেও রাস্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা! আর কেন এই এ হামলা হল? অস্ত্র হাতে নেওয়া এবং হামলা এটা কি একটি স্বাধীন দেশের জন্য হুমকি স্বরূপ ছিল না? সরকার তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ রক্ষার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে বাধ্য হন। সেনাবাহিনী মোতায়েন করার পর ১৯৭৭ সালে বান্দরবান সাঙ্গু নদীতে সেনাবাহিনীর উপর অতর্কিত হামলা করে ৫ সেনাসদস্যকে হত্যা করে।

তখন তো পাহাড়ে বাঙালি ছিল না, কেন পাহাড়ে সেনা ও রাস্ট্রীয় সম্পদের উপর হামলা হল? আজ যারা বলছে, পাহাড়ে সব সমস্যার মূল বাঙালি আর সেনাবাহিনী, তাদের কাছে প্রশ্ন ১৯৭৫ সালে পাহাড়ে কিসের সমস্যা ছিল? তখন তো বর্ণিত মহল পাহাড়ে ছিল না।

কেন তখন হামলা হল আর তথাকথিত শান্তিবাহিনী গঠন হল? উদ্দেশ্যে কি ছিল? বাস্তবতার নিরিখে বলতে গেলে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা অধিকার আদায়ের সমস্যা নয়, সেনাবাহিনী কিংবা বাঙালিরও সমস্যা নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার পেছনে অন্য অজানা কারণ লুকিয়ে আছে, এবং নৈপুণ্যে অন্য কিছু আছে। যেটা অদূরে বসে স্বাভাবিক ভাবে প্রতীয়মান করা প্রায়ই অসম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রামের চরম বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা উপজাতি জনগোষ্ঠীর একটি কতিপয় অংশ মেনে নিতে পারেনি। আত্মস্বীকৃত রাজাকার ত্রিদিব রায় তারই জলন্ত উদাহরণ।

স্বাধীনতার পূর্বে থেকে তথাকথিত চাকমা রাজ পরিবার চায়নি পার্বত্য চট্টগ্রাম পশ্চিম পাকিস্তানের অংশে পড়ুক। তারা চেয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি ভারতের অংশে পড়ুক এবং বান্দরবান বার্মার অংশে পড়ুক। সেজন্যই তারা ১৯৪৭ সালে ভারত পাকিস্তান ভাগ কালে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিল, এবং বান্দরবান অংশে বৌমাং সার্কেল বার্মার পতাকা উত্তোলন করেছিল৷

স্বাধীনতার যুদ্ধের সময়, তাদের ধারণা ছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তাদের রাজ প্রথা রাখবে না এদেশের শাসকরা। এই প্রথার বিলুপ্তি ঘটবে।