মাঠ গরম রাখতে চায় ভোটে হতাশ বিএনপি

0
10

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ১৪ বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে শুধুমাত্র দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ৯৩ দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছিলো। পরে রাজপথে তেমন কোনো বড় ধরণের কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারেনি দলটি।

এরপর নেতা কর্মীরা দল নয় বরং নিজেদের রক্ষার্থে ব্যস্ত ছিলেন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা নতুন করে সংগঠিত হতে শুরু করেছে। সংগঠিত হয়েই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এজন্য দলটিকে সর্বোচ্চ ব্যাকআপ দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলো বিএনপি। পরে দলকে সংগঠিত করতে এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার জন্য উপ-নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে অংশ নেয় তারা।

যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের আগামীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা বলেছে বিএনপি। পাশাপাশি নির্বাচনের পর থেকেই সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি গঠন এবং কর্মী সভাও করেছে দলটি।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, রাজপথে সভা-সমাবেশ এবং মিছিলে ন্যূনতম স্পেস বিএনপি পাচ্ছে না। তাই ভোটের রাজনীতিতে নেতা কর্মীদের চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি সংগঠনকে সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিলো। যদিও আবার নির্বাচনের না যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে এটাও বিএনপির আরেকটি কৌশল।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুপরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেবে বলেই আগেভাগে আওয়ামী সরকার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে। এই অসহনীয় দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর বিএনপি সবসময় জনগণের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অঙ্গিকারাবদ্ধ। তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে।

বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হয়। সে সময় দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় বিএনপি। ওই সময় বিএনপির নেতারা বলেছিলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা এমন কিছু করতে পারছি না যে, আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে খালেদা জিয়াকে বের করে নিয়ে আসতে পারবো। কিন্তু আমাদের সুসংগঠিত হতে হবে এবং আন্দোনের মধ্যে দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে সম্প্রতি দলটি রাজপথে ব্যাপক আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। ওই সময় পুলিশের লাঠিপেটা চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশের লাঠিপেটায় সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হয়। পুলিশ বলছে, এতে তাদের অন্তত আট সদস্য আহত হয়েছে।

অন্যদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনেও ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে বিক্ষোভ সমাবেশটি পণ্ড হয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ ছাত্রদলের ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজনকে কর্মীকে আটকও করেছে পুলিশ।

ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে’ এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো।

সকাল সোয়া ১১টায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে সকাল ১১টায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রেসক্লাবে প্রবেশ করেন। পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে প্রেসক্লাবের মূল ফটক দিয়ে বাইরে বের হয়ে আসেন। এ সময় পুলিশ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে তারাও পাল্টা ধাওয়া দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে। জবাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছোঁড়েন। আশপাশে ভাঙচুরও করেন। তাদের ধাওয়া করে পুলিশ। যাকে সামনে পায়, তাকে লাঠিপেটা করে। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

কুড়িগ্রামে পুলিশি বাঁধায় যুবদলের মিছিল

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এখানে সমাবেশ করার জন্য ছাত্রদল কোনো অনুমতি নেয়নি। তারা অনুমতি না নিয়ে প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে ৪০০-৫০০ জন কর্মীসহ সড়কে নেমে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারা হয়েছে। প্রেসক্লাবের ভেতরে এতো ইট নেই। এতো ইট এলো কীভাবে? এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় পুলিশের সাত থেকে আটজন সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিপেটা করেছে এবং রাবার বুলেট ছুঁড়েছে। এতে বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।