কয়রাতে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে অবৈধ করাত কল

0
17

 

শুভ মন্ডল- কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি:

খুলনার কয়রায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ করাত কল। রাস্তার আশেপাশেসহ বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় গড়ে উঠছে করাতকল। এগুলোতে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে অনেক গাছ। রাতে কিংবা দিনে নিয়ন্ত্রহীনভাবে চলছে কাঠ চেরাই। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এসব মিলের নেই কোন সরকারি অনুমতিপত্র কিংবা লাইসেন্স । উপজেলার বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়ক ঘেঁষে জনবসতি স্থানে অবৈধভাবে ১৭টি করাতকল গড়ে উঠেছে।আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা এসব করাতকল গত কয়েক বছরে উচ্ছেদ করা হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় ,বনবিভাগের নীতিমালায় (সংরক্ষিত আইন) সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন সম্পর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরেও নীতিমালা ভেঙ্গে এসব অবৈধ করাতকলে গভির রাতে সুন্দরবন থেকে পাচার হয়ে আসা বিভিন্ন প্রকারের সরকার নিষিদ্ধ গাছ ভোর রাতে চেরাই করে চালাচ্ছে জমজমাট ব্যবসা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের বনজসম্পদ। আর এসব থেকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমানের রাজস্ব।

অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এক কথিত সাংবাদিক নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় করছেন ওইসব মিল মালিকদের কাছ থেকে। এতে করে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, রাস্তার পাশে করাতকল থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে সমস্যা হয়। যখন করাতকল চলে, তখন শব্দ দূষণসহ কাঠেরগুড়া বাতাসে ছড়িয়ে নিঃশ্বাসের সঙ্গে নাকের ভিতর দিয়ে মানব শরীরে প্রবেশ করে। এতে মানুষের শরীরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যানবাহনের চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় করাতকল থাকায় পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

উপজেলার একাধিক করাতকল মালিকের সাথে কথা বললে তারা জানান, এ উপজেলাতে করাতকলের জন্য কোনো লাইসেন্স দেয়না কর্তৃপক্ষ। বৈধ অনুমতি না থাকলেও সরকার নিষিদ্ধ কোন প্রকার গাছ কাটায় না বলে দাবী করে তারা । তারা আরও বলেন, অনুমতিপত্র পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে তার করাতকলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।মাসিক মোটা অংকের মাসোয়ারার কথা অস্বিকার করেন তারা ।

বন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, মিল মালিকদের থেকে মাসোয়ারা নেওয়া ও সুন্দরবনের কাঠ চেরাইয়ের কথা ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বলেন, অবৈধ স’মিল গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান চালানো হবে।

 

কয়রা খুলনা সংবাদদাতা
তারিখ ১৪-০৭-২০২