কুড়িগ্রামে শেষ বয়সে এসে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনছে আমজাদ

0
10

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধার সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানির স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধার সনদ প্রাপ্ত মোঃ আমজাদ হোসেন ৭৫ বছর বয়সে এসে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবরে দেয়া আবেদন ও এলাকায় গিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হাজী পাড়ার মৃত কায়ছার আলীর পুত্র মোঃ আমজাদ হোসেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ২৫ মার্চ হতে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ঘোষপাড়াস্থ আহম্মদ আলীর পাট গোডাউনে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে রোকুনুদৌলা, রওশন আলী, মন্জু মন্ডল, সিরাজুল ইসলাম টুকু, আমান, সাচ্চু সহ অনেকের সাথে কন্ট্রোল রুমের তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। পরে এপ্রিল’৭১ হানাদার বাহিনী কুড়িগ্রামে প্রবেশ করলে কন্ট্রোল রুমটি ভুরুঙ্গামারীতে স্থান্তরিত করা হয়। কিন্তু তিনি সে সময় কলেজে চাকুরী করার সুবাদে কুড়িগ্রামে থেকে যান এবং বিভিন্ন খবর আদান প্রদান করেন। ১৯৭২ সালের ৩ জানুয়ারি ক্যাপ্টেন নওয়াজিশ, সুবেদার আরব আলী ও অধ্যাপক হায়দার আলীর নির্দেশে কুড়িগ্রামে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ট্রেনিং এর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও পাকিস্তানি পতাকা পোড়ানোর দায়ে শাহ আলম নামের এক ছাত্র তাদের হাতে ধৃত হলে কৌশলে তাকে সেখান হতে বাচিয়ে নিয়ে আসেন। আমজাদ হোসেন বলেন, আমি সম্মুখ মুক্তিযোদ্ধা (এফ.এফ) না হলেও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। এ কাজের জন্য তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধার সর্বাধিনায়ক এম.এ.জি ওসমানি স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রাপ্ত হই। সে সময় সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন স্থানে থাকায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারিনি। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠন সংশ্লিষ্ট অনেকের প্রত্যায়ন সহ যাবতীয় তথ্যাদি দিয়ে ২৬ অক্টোবর অনলাইনে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী কুড়িগ্রামে প্রবেশের আগে তিনি আমাদের সাথে বন্দুকের বাস্ক, বন্দুক এগিয়ে দেয়া-নেয়ায় ছিলেন। ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোথায় ছিলেন তা জানিনা।