ধ্বংসের পথে হাসন রাজার স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি

0
11

সদর প্রতিনিধি,  সুনামগঞ্জ:  ‘হাসন রাজার দেশ’ নামেই পরিচিত। প্রতি বছর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম, বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্ত, মরমি গীতিকবি দুর্বিণ শাহর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। অন্যদিকে সংরক্ষণের উদ্যোগের অভাবে ধ্বংসের পথে রাজার স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি।হাসন রাজার বাড়ি

মরমি এ সাধকের জীবন ও দর্শন কিংবা তার গানের চর্চা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখানে হয় না বললেই চলে।

এদিকে করোনার কারণে বন্ধ হয় হাসন রাজা মিউজিয়াম। পরে চার দফা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তালা ঝুলে আছে হাসন রাজা মিউজিয়ামে। সরকারি বা পারিবারিকভাবে এটি সংস্কার কিংবা সংরক্ষণের কোনো উদ্যেগ এখনো চোখে পড়েনি। মিউজিয়ামের তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

‘লোকে বলে বলেরে ঘর-বাড়ী ভালা না আমার/ কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যেরও মাঝার/ লোকে বলে বলেরে ঘর-বাড়ী ভালা না আমার’—মৃত্যুর আগেই এ গানের মধ্যে মরমি কবি হাসন রাজা বলে গেছেন তার ঘর-বাড়ির অবস্থা ভালো নয়।

সেই গানের কথা আজ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এই মরমি কবির সেই স্মৃতিবিজড়িত ঘরটিও আজ ধ্বংসের পথে। নেই সংস্কারের উদ্যোগ।

বিখ্যাত মরমি কবি হাসন রাজা ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর (৭ পৌষ ১২৬১) সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী সুরমা নদীর তীরে লক্ষ্মণশ্রী পরগনার তেঘরিয়া গ্রামে ধনাঢ্য জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, রামপাশা, লক্ষ্মণশ্রী আর সিলেটের একাংশ নিয়ে পাঁচ লাখ বিঘার বিশাল অঞ্চলের জমিদার ছিলেন।

পিতা ও মাতা উভয়ের কাছ থেকে পাওয়া বিশাল জমিদারির মালিকানা তার হাতে চলে আসে কিশোর বয়সে। বেহিসাবি সম্পদ আর ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। জাগতিক লোভ-লালসা, ক্ষমতায়ন, জবরদখল করেও তার প্রতিপত্তি বাড়ানোর কাজে প্রবৃত্ত ছিলেন এ প্রবল পরাক্রমশালী জমিদার।

কিন্তু তার ভেতরের ভ্রান্তি ঘুচে যায়। তিনি তার সম্পদ জনকল্যাণের জন্য উইল করে দিয়ে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে হাওড়ে হাওড়ে ভাসতে থাকেন। সৃষ্টিকর্তার প্রেমে পাগল হাসন রাজা সেই সময় থেকেই নিজের লেখা গান গেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন দেশে-বিদেশে।

হাসন রাজার গানের মাঝে অন্তর্নিহিত রয়েছে নশ্বর জীবন এবং নিজের কৃত কর্মের প্রতি অপরাধবোধের কথা। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে তার রচিত ২০৬টি গান নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশিত হয়। সংকলনটির নাম ছিল ‘হাসন উদাস’।

১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সুনামগঞ্জ শহরের লক্ষ্মণশ্রীতে মায়ের কবরের পাশে কবর দেওয়া হয়।