শ্রীপুরে পোশাককর্মীর আর্তনাদ, স্বামীর নির্যাতনে ৩ সন্তান নিয়ে দিশেহারা নাসিমা

0
9

রাজীব, গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের শ্রীপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন গৃহবধূ নাসিমা। এ মামলায় জেল থেকে জামিনে এসে কয়েকদিন ভালোভাবে থাকলেও আবারও স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য অত্যাচার নির্যাতন করে যৌতুক না পেয়ে নাবালক ৩ সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন স্বামী নূর মোহাম্মদ। গতকাল শুক্রবার কান্নাজড়িত কন্ঠে নাসিমা সাংবাদিকদের জানান, ২০০২ সালে ময়মনসিংহের পাগলা থানার সালকা সাফিলা গ্রামের আ. আজিজ মন্ডলের সন্তান নূর মোহাম্মদের সাথে ইসলামি শরিয়াহ ও রেজিস্ট্রি কাবিনে তার বিয়ে হয়। তাদের ছোট ছোট ২ টি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর নাসিমা তার বাবার বাড়ি থেকে ৮ লাখ টাকা এনে স্বামীকে দিলে স্বামীর নামে জমি ক্রয় করেন। নাসিমা প্রায় ২০ বছর যাবৎ পোশাক কারখানায় চাকুরী করে তার উপার্জিত সব টাকা তার স্বামীকে দিলে তার স্বামী শ্রীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের আনসার রোডে একটি বাড়ি নির্মান করে।

নূর মোহাম্মদ সম্প্রতি নাসিমাকে না জানিয়ে আরেকটি বিয়ে করেন। বিয়ে করার পর থেকে নাসিমার সাথে খারাপ আচরনের মাত্রা বেড়ে যায়, নাসিমার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে নুর মোহাম্মদ। নাসিমা বাধ্য হয়ে বিজ্ঞ আদালতে ১০৫৬/২১ মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেল থেকে বের হয়ে আপোষের শর্তে বাড়িতে নিয়ে কয়েকদিন ভালো থাকলেও পূনরায় শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে নাসিমাকে। নাসিমা আরও জানান, তার নাবালক তিন সন্তান সহ নাসিমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন নুর মোহাম্মদ। বাড়ির ভাড়াটিয়াদেরকেও বের করে দিয়েছেন, এরই মধ্যে একবার বাড়ি তালাবদ্ধও করে রেখেছিলেন।

প্রায় ৫ মাস যাবৎ তাদের কোন ভরণপোষণ না দেয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে নাবালক সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিন সন্তানের জননী নাসিমা। স্বামীকে ব্যবসার জন্য এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে দিলে তার স্বামী বাস গাড়ি ক্রয় করে। কিন্তু বর্তমানে তার স্বামী এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় এ টাকাও বিভিন্নভাবে ধারদেনা করে তাকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে তিনি আরও চরম বিপাকে পড়ে দেনাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন।অভাবে ছোট ছেলের স্কুলে যাওয়া বন্ধ ও বড় ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হবার পথে। প্রতিবেশীরা জানান নাসিমা প্রায় ২০ বছর যাবত গার্মেন্টসে কাজ করছে।

চাকুরীর জমানো কষ্টার্জিত টাকা স্বামীর কাছে দিলে এবং স্বামী কিছু টাকা দিয়ে বাড়িটি নির্মান করেছেন। এখন এমন ছোট ছোট অবুঝ শিশুসহ নাসিমাকে বের করে দিতে চায় তার স্বামী। বিষয়টি খুবই অমানবিক বলে বিচার দাবি করেন প্রতিবেশীরা। তারা আরও জানান,অনেক সময় নাসিমাকে মারধর করেন নুর মোহাম্মদ। আমরা কান্নাকাটি চিৎকার চেচামেচি শুনে এসে নিষেধ করলে ফেরাতে গেলে আমাদেরকে অপমান অপদস্ত করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বলে, আমার বউকে আমি মারি, আরও মারবো আপনাদেরকি? আপনারা এখানে আসছেন কেন? অনেক সময় দরজা বন্ধ করে মারধর করে। আমরা বাহিরে থেকে কান্নাকাটির শব্দ পাই। এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।