গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তার দুই হাসপাতালকে দেড়লক্ষ টাকা জরিমানা।

0
17
রাজীব প্রধান, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ-
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলাধীন মাওনা চৌরাস্তায় অভিযান চালিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আল হেরা হাসপাতালকে ৫০হাজার এবং লাইফ কেয়ার হসপিটালকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ক্লিনিক সুত্রে জানা গেছে, আল হেরা হাসপাতালে মেয়াদ উত্তীর্ণ চারটি ইডিটি টিউব ৪ টি, ১ টি ফিডিং টিউব ও ৪টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্বাক্ষরবিহীন প্যাথলজি টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া যাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারা অনুযায়ী অর্থ দন্ড হিসেবে ৫০হাজার টাকা অর্থ দন্ড করা হয় এবং লাইফ কেয়ার হসপিটাল অভিযান পরিচালনা করা হয়, অভিযানকালে ১ টি মেয়াদ উত্তীর্ণ লিপিড প্রোফাইল রিএজেন্ট ( রক্ত পরীক্ষার মেডিসিন), ৪ টি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের স্বাক্ষরবিহীন প্যাথলজি রিপোর্ট পাওয়া যাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারা অনুযায়ী অর্থ দন্ড হিসাবে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বেলা দুইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলা অভিযানে র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার সিনিয়র এ এসপি মাজহারুল ইসলাম ও র‌্যাব‌ সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ নাদির শাহ ও মোঃ আশরাফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের র‌্যাব সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। র্যাবের অভিযানের পর লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আজাহারুল ইসলাম পারভেজ এর কাছে তথ্য চাইতে গেলে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উপর চড়াও হয়। এসময় কোন তথ্য দিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। অপরদিকে আলহেরা হাসপাতালের ম্যানেজার নাজমুল ইসলাম বলেন, অভিযানের বিষয়টি শুনেছি। জরিমানার বিষয়টি আমার জানা নেই। উল্লেখ্যঃ মাওনা চৌরাস্তায় লাইফ কেয়ার হাসপাতালে অপচিকিৎসায় এক প্রসুতি মায়ের জীবন সংকটাপন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগীর শশুর কফিল উদ্দিন মন্ডল বাদী হয়ে গত ১২ মার্চ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.মাহমুদা আলম ব্যবস্থাপক আবুল হাসান ও মালিক মহিউদ্দিন আহমেদের নামে থানার অভিযোগ করেন।সংকটাপন্ন প্রসুতির নাম সিমু আক্তার সে ভাংনাহাটি গ্রামের তুষারের স্ত্রী। থানার অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর শশুর কফিল উদ্দিন মন্ডল জানান, তার পুত্রবধু সন্তান সম্ভাব্য হওয়ায় হাসপাতালের লোকজন তাকে ফুসলিয়ে সিজারের জন্য উক্ত হাসপাতালে ভর্তি করেন। গত ১মার্চ অভিযুক্ত গাইনী চিকিৎসক মাহমুদা আলম সিজারিয়ান অপারেশন করলে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তার পুত্রবধু। অপারেশনের পর থেকেই উক্ত হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় তার পুত্রবধুর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠে। পরে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে উঠলে গত ০৪ মার্চ তাকে রিলিজ দিয়ে দেয়। রোগী বাড়ী যাওয়ার পর থেকেই ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরন শুরু হতে থাকে। এসময় রোগীর জীবন বাঁচাতে জরুরীভাবে তাকে উত্তরার আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই অপচিকিৎসার বিষয়টি ধরা পড়ে।