কুড়িগ্রাম জেলার গরুর হাট ভারতীয় গরুতে ভরপুর

0
49

কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন আসছে অসংখ্য পরিমাণ গরু। এতে জেলার কোরবানির হাটগুলোতে ভারতীয় গরু ও মহিষে সয়লাব। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার গবাদি পশু আসে সীমান্ত গলে বাংলাদেশে। অবৈধপথে আসা এসব গবাদি পশু পাঁচশত টাকার বিনিময়ে কাষ্টম বিভাগের মাধ্যমে করিডোর করে দেয়া হয় বৈধ্যতা। হাজার হাজার গরু সীমান্ত গলিয়ে আসলেও এর মূল্য পরিশোধ করা হয় হুন্ডির মাধ্যমে। গরু আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন চুক্তি না থাকায় টাকা লেনদেন হয় অবৈধ পন্থায়। ফলে গরু লালন-পালন করে মার খাচ্ছে দেশের কৃষক ও খামারিরা। কারণ হঠাৎ করে ভারত থেকে স্রোতের মতো গবাদি পশু আসতে থাকায় দাম কমেছে। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে কৃষক ও খামারিরা।অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০০ টাকা। এ কারণে গরু, মহিষ ও ছাগলের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় গরু প্রতি দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু হঠাৎ করে সীমান্ত গলিয়ে অবাধে গরু আসায় দাম পড়ে যায়। এতে করে কৃষক ও খামারিরা হতাশ হয়ে পড়েছে। ঈদকে সমনে রেখে কৃষক ও খামারিরা গরু বিক্রি করে। এ লাভের টাকায় তাদের ঈদ খরচ হয়।[googlemap src=”https://www.google.com.bd/maps/@25.8172649,89.6437839,14z” width=”250″ height=”250″]

তবে ঈদের বাজার হিসাবে তুলনামুলকভাবে দাম কম। এটার প্রধান কারণ ভারত থেকে সীমান্ত গলে আমদানি হচ্ছে প্রচুর গরু। তবে ঈদের বাজারে ভারতীয় গরুর চেয়ে কৃষকের ঘরে পালা গরুর চাহিদা একটু বেশি। ভারতীয় গরুর চাহিদা ঢাকায় বেশি। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে প্রতি ট্রাক গরুতে অতিরিক্ত খরচ হয় ২/৩ হাজার টাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে শ্রমিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে ঘাটে ঘাটে চাঁদা বাবদ এসব টাকা দিতে হয়। এরপরও পাইকারদের গরু প্রতি গড়ে লাভ হয় ১ থেকে ৩ হাজার টাকা। কুড়িগ্রাম বিজিবির পরিচালক লে. কর্নেল জাকির হোসেনের দপ্তরের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, অবৈধ পথে আসা এসব গবাদি পশু ৫০০ টাকার বিনিময়ে কাস্টম বিভাগের মাধ্যমে করিডোর করা হয়। চলতি মাসে রোববার পর্যন্ত সময়ে দই খাওয়ারচর, নারায়ণপুর, ময়দান, দিয়াডাংগা, শালঝোড়, পাখি উড়ারচর, ঢলডাংগা, বাগভান্ডার, ভাওয়ালকুড়ি, শিংঝাড়, মাদারগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় এবং ধরলা ব্রিজ চেকপোস্টের মাধ্যেমে ৮ হাজার ৯৭৩টি গরু আটক করে করিডোর করা হয়। এতে রাজস্ব আয় হয় ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫শ’ টাকা। এর আগের সপ্তাহে করিডোর করা হয় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার গরু। জুলাই মাসে করিডোর হয় প্রায় ২২ হাজার গরু। ঈদকে সামনে রেখে গরু আসার পরিমাণ আরও বেড়েছে।কুড়িগ্রাম কাস্টমস ইন্সপেক্টও আশরাফুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা ব্রিজ পয়েন্ট ও রৌমারি পয়েন্ট দিয়ে চলতি মাসের বুধবার পর্যন্ত ৯ দিনে ৩৫ হাজার ১৪৭টি ভারতীয় গবাদি পশু করিডোর করা হয়। এতে সরকারের রাজস্ব আসে এক কোটি ৭৫ লাখ ৭৩ হাজার ৫শ’ টাকা। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম পয়েন্টে করিডোর করা হয় ২৪ হাজার ৭০০ গরু ও এক হাজার ১০০ মহিষ। রৌমারি পয়েন্টে করিডোর করা হয় ৯ হাজার ১৪৯টি গরু এবং ১৯৮টি মহিষ। ভারত থেকে আসা এসব গবাদি পশুর মূল্য কীভাবে পরিশোধ করা হয় তা তিনি জানেন না বলে জানান। কুড়িগ্রাম প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ডা. অমিতাভ চক্রবর্তী জানান, জেলায় মোট গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। এর মধ্যে বিক্রয় উপযোগী গরু ৫৫ হাজার ৫০০টি, ছাগল ষোল হাজার ও ভেড়া ৩হাজার ২৭৮টি। জেলায় ২৮ হাজার পরিবার গবাদি পশু লালন পালন করে। তবে ডেইরি খামার আছে ৫০৭টি। জেলায় বছরে গবাদি পশুর মাংসের চাহিদা এক লাখ ৮০ হাজার মে. টন। –