হাবিপ্রবিতে মৎস্য সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন

0
96

মুহিউদ্দিন নুর, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ  হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহনশীল মৎস্যচাষ নিশ্চিতকরণে বিপন্ন প্রায় দেশীয় প্রজাতি খড়কী মাছ এর অন্তর্ভূক্তি ও সংরক্ষণ বিষয়ক দুইদিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় ফিসারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের  আইআরটি’র সেমিনার কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয়  ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম।

seminar
seminar

ফিসারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং প্রকল্প পরিচালক ড. ইমরান পারভেজ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন আইআরটি এর পরিচালক প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হালদার এবং ফিসারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ. কে. এম রুহুল আমীন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার, ফিসারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান  প্রফেসর ড. জান্নাতুল ফেরদৌসী এবং মৎস্যচাষী ও হ্যাচারি মালিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. রাশেদ আলম।
প্রকল্প পরিচালক ড. ইমরান পারভেজ তার সূচনা বক্তব্যে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পাশাপাশি কিভাবে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তার খুটিনাটি ও তুলে ধরেন। এ সময় তিনি হাবিপ্রবিতে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শিক্ষার  উদ্দেশ্যে   হ্যাচারি স্থাপনের জন্য মাননীয় উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানান ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম বলেন, আয়তনের দিক দিয়ে পৃথিবীতে বাংলাদেশ ৯৪ তম কিন্তু  মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ। এটি একই সাথে আমাদের জন্য  আনন্দের ও গর্বের  বিষয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেক দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে বা যাচ্ছে । সুস্বাদু খড়কী মাছসহ অনেক প্রজাতি আজ বিলুপ্ত প্রায়।তিনি বলেন  মৎস্য বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলে আজ বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে সফলতা পেয়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় মাছ সংরক্ষন, বংশ বৃদ্ধি এবং পোনা উৎপাদনে মৎস্য বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসতে হবে এবং এ গবেষণার ফলাফল এই অঞ্চল সহ সারা বাংলাদেশে বিলুপ্ত মাছ রক্ষায় কাজে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন । বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন এই ক্যাম্পাসে হ্যাচারি স্থাপন করা এখন আমার প্রথম অগ্রাধিকারমূলক কাজ ।  ১২ বছরেও হ্যাচারি কেন স্থাপন হয়নি তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন । তিনি যোগ করেন মাৎস্যবিজ্ঞান  অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য হ্যাচারি খুবই গুরুপ্তপূর্ণ ।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষনের বিকল্প নেই। জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন-এ তিনটি বিষয়ের উপর সকলকে গুরুত্ব দিতে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান প্রশিক্ষনার্থীরা নিজের এবং দেশের কাজে লাগাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ গবেষণা কাজে গবেষণা সহকারি হিসেবে ও প্রশিক্ষনের কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন    ফিসারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগ থেকে সদ্য  মাস্টার্স শেষ করা শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম ।

এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ২০ জন মৎস্যচাষী ও হ্যাচারি মালিক অংশ গ্রহন করছেন।