সোনাহাট স্থলবন্দর পাথর রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ

0
44

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ কুড়িগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জেলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের আশায় একমাত্র স্থলবন্দর বঙ্গ সোনাহাট চালু হয়। স্থলবন্দরটি নানা কারণে স্থবির। ১০ পণ্য আমদানির অনুমতি নিয়ে ৪ বছর আগে যাত্রা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত অনিয়মিত আসছে ২ পণ্য পাথর ও কয়লা। এ বছর কয়লা আমদানিও বন্ধ।
অন্যদিকে বাংলাদেশি সব ধরনের পণ্য রফতানি তো দূরের কথা ১ পণ্যও রফতানির সুযোগ পায়নি। ফলে আমদানিকারকরা বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। স্থবির স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য। বন্দরে নিজেদের ভিটে-জমি দিয়েও কাজের সংস্থান না হওয়ায় বেকার হয়ে বসে আছেন শ্রমজীবী মানুষ। বন্দরে আমদানি-রফতানির পণ্য সংখ্যা না বাড়লে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের উন্নয়নের কপাট।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের ২৫ অক্টোবর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোনাহাট শুল্ক স্টেশনকে দেশের ১৮তম স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে। ওই বছরের ১৭ নভেম্বর নৌ-পরিবহনমন্ত্রী স্থলবন্দরের উদ্বোধন করেন। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কয়লা আমদানির মধ্য দিয়ে পণ্য আমদানি শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে এ বন্দর দিয়ে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা ও পেঁয়াজ ১০টি পণ্য আমদানির অনুমোদন দেয় দুই দেশের রাজস্ব বোর্ড। বাংলাদেশের সব ধরনের পণ্য রফতানির কথাও ছিল। রফতানি তো দূরের কথা চার বছরেও তালিকাভুক্ত পণ্যগুলো আমদানি শুরু হয়নি। ভারতের সেভেন সিস্টারখ্যাত রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবেশ দ্বার এ বন্দর। একসময় পথে কৃষিপণ্য, কাপড়, গবাদিপশু আমদানি-রফতানি হতো। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর এ পথ বন্ধ হয়ে যায়। পরে লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-আসাম, মেঘালয়, মিজরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, হিমাচল ও অরুণাচল রাজ্য থেকে ৪০০কিমি পথ ঘুরে পণ্য আমদানি-রফতানি করতেন ব্যবসায়ীরা। ২০১২সালে বঙ্গ সোনাহাট স্থলবন্দর চালুর পর ভারতের ওই সাতটি রাজ্যের সঙ্গে সড়ক পথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। সোনাহাট বন্দর দিয়ে মাত্র ২৪কিমি পথ পরিবহন করে পণ্য আনা হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ অনেক কমে যায় ব্যবসায়ীদের। বন্দর চালুর বছরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আমদানি-রফতানিকারকরা আসেন এ বন্দরে ব্যবসা করতে। পরিবহন খরচ কম হওয়ায় প্রথম দুবছর কয়লার জমজমাট ব্যবসা হয়। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায়। পরের বছর হঠাৎ এ পথে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।
পাথর আমদানি থাকলেও মাঝে মধ্যে ভারত অংশে ঝামেলার কারণে পাথর আমদানি বন্ধ থাকে। দীর্ঘ আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে পাথর আমদানি শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে ২৫-৩০জন ব্যবসায়ী এ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করছেন।
মাসুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ আলম বলেন, একটি পণ্যের যদি কোনো কারণে ক্রেতা না থাকে তাহলে সেদিন লোকশান গুনতে হয়।
বঙ্গ সোনাহাট স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল জানান, শুধু পাথর আমদানি করে লোকশানে পড়ে অনেকে অন্যখানে চলে যাচ্ছেন। দুই দেশের রাজস্ব বোর্ড সমন্বয় করে বাকি আটটি পণ্য আমদানি ও বাংলাদেশি পণ্য রফতানির সুযোগ করা প্রয়োজন।
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, শুরুতে দেড়শ মাঝখানে দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে বর্তমানে ২৫-৩০জন এ বন্দরে ব্যবসা করছেন।
বঙ্গ সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শিকদার গোলাম সারোয়ার এ বিষয়ে জানান, স্থলবন্দরের উন্নয়নে সমস্যাগুলো সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। দুই দেশের রাজস্ব বোর্ডের আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বেশি দিন এ সমস্যা থাকবে না।