সাপাহারে মৃত্যুর ১৮ মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মহিলার লাশ উত্তোলন

0
36

সময়ের পাতা, নওগাঁ প্রতিনিধিঃনওগাঁর সাপাহারে মৃত্যের ১৮ মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে বিলকিস বেগম (২৮) নামের এক মহিলার লাশের হাড় গোড় উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন থানা পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার অনাথপুর গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে মহিলার লাশের হাড় গোড়গুলি উত্তোলন করা হয়।
জানা গেছে, ১৯৯৮ ইং সালে ওই গ্রামের আব্দুল কাদেরের কন্যা বিলকিস বেগম (২৮) এর সাথে একই গ্রামের মৃত: আবুল কাশেমের পুত্র হাফেজ তোফাজ্জ্বল হোসেন এর বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের ঘরে ১টি পুত্র ও ১টি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বেশ কিছু দিন পূর্ব হতে হাফেজ তোফাজ্জ্বল দেশের সিলেট সদরের একটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার সুবাদে তার স্ত্রী ওখানে গিয়ে কিছু দিন থাকার পর হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই তার স্বামী তাকে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার প্রাক্তন স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা: মো: সিরাজুল ইসলামের নিকট চিকিৎসা করায়। এরপর তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৩ আগষ্ট বিলকিস কে জালালাবাদ রাজিব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও তার অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে ওই দিনই তাকে নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়া হয়। সেখানে ১দিন চিকিৎসা করার পর ৪ আগষ্ট চিকিৎসাধীনাবস্থায় ভোর ৩টা ১৯মিনিটে বিলকিসের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরে সেখান থেকে লাশ সাপাহারে এনে গ্রামের বাড়ীর কবর স্থানে দাফন-কাফন সম্পূর্ন করা হয়। পরবর্তীতে মৃত্যুর প্রায় দেড় বছর পরে মৃত: বিলকিস বেগমের রেখে যাওয়া সন্তান নিয়ে জামাই তোফাজ্জ্বল ও শশুর আব্দুল কাদেরের সাথে ঝগড়া বিবাদ হয়ে উভয়ের মধ্যে সর্ম্পকের অবনতি ঘটলে জামাইকে শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে শশুর তার মেয়ের মৃত্যুর ১ বছর ৩ মাস পরে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে নওগাঁ কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
এরপর মৃত্যুর ১৮ মাস পরে মামলার স্বার্থে ও আদালতের নির্দেশে সোমবার দুপুরে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহাদ পারভেজ বসুনীয়ার উপস্থিতিতে কবর খুড়ে লাশের হাড় গোড় উত্তোলন করা হয়।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমএম সামিরুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান, তিলনা ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দীন সহ প্রশাসন ও এলাকার অসংখ্য গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কবর থেকে মাথার খুলি, মুখের দুই পাটির ২১টি দাঁদ সহ প্রায় অর্ধশত হাড় গোড় উদ্ধার করে কবরস্থানেই সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে হাড় গোড় গুলি পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ মর্গে প্রেরণ করা হয়।