সাঁওতালদের দেয়া ত্রাণ নেতাদের পকেটে

0
119

মোস্তফা কামাল সুমন: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বহুল আলোচিত কথিত সাঁওতাল উচ্ছেদ পরবর্তি দেশের বিবেকবান মানুষ সাহায্য সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। ৬ নভেম্বরের উচ্ছেদের দুই দিন পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ গোবিন্দগঞ্জে মাদারপুর গির্জার প্রাঙ্গনে এসে তাদের ত্রান সহায়তা দেয়। সাওতাল

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, বিএনপি, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন এমনকি প্রধান বিচারপতি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সাঁওতালদের মাঝে ত্রান সহায়তা প্রদান করা হয়। অদ্যবধি প্রতিদিন গড়ে ৪টি প্রতিষ্ঠান সাঁওতালদের মাঝে ত্রান বিতরণ করছে। আর এই ত্রানের বিরাট অংশই চলে যাচ্ছে নেতাদের পকেটে। ফলে এতো ত্রানেও অসহায় ভাবে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে তারা। শত ত্রান পেয়েও নেতাদের কথামত চলতে হচ্ছে তাদের। নেতাদের কথার বাহিরে গিয়ে ত্রান ব্যবহারের সুযোগও মিলছে না।
ঢাকা থেকে আসা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ত্রান প্রদানের সহযোগিতা করে গোবিন্দগঞ্জের স্থানীয় এক সাংবাদিক। বাংলাদেশ পুজা উদযাপন কমিটির নেতা এই সাংবাদিক ঢাকার একটি সংগঠনের লোকদের সাথে কয়েকদিন আগে সাঁওতালদের মাঝে ত্রান দেয়ার জন্য জয়পুর পাড়ায় যায়। জয়পুর পাড়ায় তারা ব্যক্তি ধরে ধরে ত্রান বিতরণ করতে থাকে। এমন সময় সাঁওতালদের নেতারা এসে বাধা প্রদান করে বলে তাদের মাধ্যমে ত্রান দিতে হবে। তাছাড়া তারা ত্রান দেয়া যাবে না। বাধার সম্মুখীন হয়ে ত্রান দিতে যাওয়া সংগঠনটি জয়পুর পাড়া থেকে মাদারপুর পাড়ায় যায়। সেখানেও তারা একই ধরণের বাধার সম্মুখীন হয়। উপরন্তু না দেখে তারা দ্রুত মাদারপুরে কয়েকজন ব্যক্তিকে নিজ হাতে ত্রান দিয়ে ফিরে আসে। বাহিরে থেকে যাওয়া প্রায় প্রতিটি সংগঠনকে একই ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন সংগঠনের ত্রান সাঁওতাল নেতাদের মাধ্যমেই বিতরণ করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য কয়েকজন সাঁওতালকে তাদের নিজ হাতে ত্রান দিতে দেয়া হয়। বাকি ত্রান নেতারা নিজস্ব জিম্মায় রেখে দিচ্ছে। এমনকি, মহামান্য হাইকোটের নির্দেশে কেটে দেয়া ধান আজও সাঁওতালদের মাঝে বিতরণ করা হয় নি। মাদারপুর আদিবাসী কমিউনিটি স্কুলে স্তুপ আকারের রাখা হয়েছে এই ধান। যদিও বলা হয়েছিলো সমবায় পদ্ধতিতে এই ধানচাষ করা হয়েছে। এর অংশীদার প্রতিটি সাঁওতাল।
এদিকে, কথিত উচ্ছেদের ৪৫দিন অতিক্রান্ত হলেও আজও প্রতিদিন নতুন নতুন তাবু উঠছে। গড়ে প্রতিদিন ১০/১২টি তাবু তুলছে তারা। মঙ্গলবার তাবু তোলারত কয়েকজন সাঁওতালকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, তাবুতে না থাকলে ত্রান পাওয়া যায় না। তাই ত্রানের আশায় তারা নতুন করে তাবু গড়ে বসবাস করতে যাচ্ছেন।