লালমনিরহাটে রেলওয়ের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা

0
12

সংঘর্ষলালমনিরহাট জেলায় রেলওয়ের জমি দখল ও বরাদ্দ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। গাইবান্ধা জেলায় সাঁওতাল বস্তি উচ্ছেদের সময় যেমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিশেষ প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদন সূত্রে
জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিভিশনাল অফিস লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত। জেলাটিতে রেলওয়ের অনেক ভূ-সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে লালমনিরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র ড্রাইভারপাড়া এলাকায় রেলওয়ের এক দশমিক ২৭ একর এবং নিউ কলোনি এলাকায় দুই দশমিক ৯২ একর জমি অনাবাদী অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের মার্চে এসব জমি ইজারা দেয়ার জন্য এক উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়। ড্রাইভারপাড়া এলাকায় টেন্ডারকৃত প্লটের সংখ্যা ১২৪টি। এসব প্লটের বিপরীতে ৬৯ জন ব্যাংক ড্রাফট জমা দিয়েছেন। চাহিদাপত্রের বিপরীতে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী দরদাতারা ৮১ লাখ ৮০ হাজার ৩৮৮ টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে নিউ কলোনি এলাকায় টেন্ডারকৃত প্লটের সংখ্যা ৮৯টি। এসব চাহিদাপত্রের বিপরীতে ২৬ জন ব্যাংক ড্রাফট জমা দেয়। এসব দরদাতারা ১২ লাখ ২৭ হাজার ৯৭৫ টাকা ব্যাংক ড্রাফট জমা দেয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ড্রাইভারপাড়ায় টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীদের প্লটের দখল দিতে গেলে স্থানীয় জনগণ এতে বাধা দেয়। স্থানীয় জনসাধারণ তাদের বক্তব্যে জানায়, গত ৫০ বছর ধরে ড্রাইভারপাড়ায় এক দশমিক ২৭ একর জমিতে ঈদগাহ মাঠ বানিয়ে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে আসছেন। জায়গাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এবং মহল্লার ৯০% লোক মুসলমান হওয়ায় কেউ মারা গেলে ওই জায়গায় জনসাধারণ জানাজা নামাজ পড়ে থাকেন। বছরের অন্য সময়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করে থাকে। জায়গাটি ঘনবসতি হওয়ায় এর আশপাশে কোনো খেলার মাঠ নেই। জনসাধারণের এমন বক্তব্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়ে যায়। এদিকে গত বছরের ১১ই ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান রেলওয়ের জমি সম্পর্কিত বিষয়টি উত্থাপন করেন। ওই সভায় আওয়ামী লীগ দলীয় লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু এবং বিএনপি দলীয় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোমিনুল হক বলেন, তাদের জীবন থাকতে ঈদগাহ মাঠ তারা ভাঙতে দেবেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, সরজমিন এলাকাটি পরিদর্শন করে জানা যায়, বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলার সাঁওতাল বস্তি উচ্ছেদের সময় যেমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, ঠিক তেমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঈদগাহ মাঠটি ভেঙে মার্কেট করার চিন্তা করছে। স্থানীয় দুই সাংবাদিক এ মাঠটি ভেঙে ফেলতে উদ্বুদ্ধ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদনে রেলওয়ের সম্পত্তিটি দখলে নেয়ার আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ঈদগাহ মাঠ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়টি স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সমাধান করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সহসাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।