হাবিপ্রবির আলোচিত সেই তদন্ত রিপোর্টঃ সত্য বনাম মিথ্যা

0
2928

নিউজ ডেস্কঃ দুই বছর আগের ঘটনা ও নতুন করে উস্কানিকে কেন্দ্র করে গত দুই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়। আমাদের সময় পত্রিকার একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। বাস্তবে আজ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর ওই সংবাদের সাথে রিপোর্টের কোন মিল পাওয়া যায়নি । সেখানে যৌন হয়রানির কথা বলা হয়েও রিপোর্ট ও ওই ছাত্রীর দেয়া অভিযোগ পত্রে শুধু মানষিকভাবে হয়রানি, ক্লাসে হয়রানি  এবং হুমকির কথা পাওয়া গেছে । এদিকে একজন ছাত্রী আজ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানায়  , সে বলে যৌন হয়রানির কথা বলে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে , আমি এর বিচার চাই আর এরকম গোপন বিষয় কেন ফাস করা হলো তার জবাব প্রশাসনের কাছে জানতে  চাই । আর বাইরে কেন বা কারা  মানববন্ধন করতেছেন আমি তা জানিনা,

আমাদের সাথে তাদের কোন কথা হয়নি  ।   তদন্ত রিপোর্টের ব্যাপারে খোজ নিয়ে জানা যায় কিছুদিন আগে এটি সাবেক রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দেয়া হয় কিন্তু তিনি তা মাননীয় উপাচার্যের  কাছে পাঠাননি পরবর্তিতে রেজিস্ট্রারের পরিবর্তন হলে নতুন রেজিস্ট্রার আসেন এবং তিনি এই রিপোর্টের ব্যাপারে কিছু জানতেন না ।সংবাদ প্রকাশের সময়  উপাচার্য মহোদয় ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন , তিনি আজ অফিসে এসে ফাইলটি তলব করেন ও খুলে দেখেন ।রিপোর্ট খোলার পর  গোপন সূত্রে   রিপোর্টের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে । রিপোর্টের নম্বর হলো (হাবিপ্রবি/সংস্থাঃ/ই-২/২০০৫/৪২০৩ তারিখ ১৮/১০/২০১৬)  । রিপোর্টের শুরুতে বলা হয় অভিযুক্ত শিক্ষক সোনিয়াকে (ছদ্মনাম) প্রেম নিবেদন করেন। ওই ছাত্রী রাজি না হলে তাকে কিছুটা হেনস্থা করা হয়। এতেও কাজ না হলে  তার বন্ধু বান্ধুবিদের দিয়ে তার ব্যাপারে  মিথ্যা স্বীকারুক্তি নেয়া হয় । এতেও তেমন কাজ না হলে তিনি নিজের আঙ্গুল কেটে রক্ত দেয়া সহ আত্নহত্যার হুমকি দেন। এসব কে কেন্দ্র করে ওই ছাত্রীর এক বান্ধবিকেও তিনি ক্লাসে বিভিন্ন ধরনের কথা শুনাতেন এবং মানষিকভাবে হয়রানি করতেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সোনিয়া(ছদ্মনাম) সে কোন ধরনের অভিযোগ করেনি সে সময় । এদিকে তদন্ত কমিটি ওই শিক্ষকের প্রাইভেট পড়ানোর ও সত্যতা পান কিন্তু সেখানে  কোন ছাত্রীকে হয়রানির আলামত বা প্রমান তারা পাননি । এদিকে ওই শিক্ষককে এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি তলব করলে ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা জানালে তিনি ওই মেয়ের প্রতি দুর্বলতার কথা  স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন । তদন্ত কমিটি যে কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা পায় সেগুলো হলো ওই ছাত্রীর বান্ধবিকে মানষিক নির্যাতন, হুমকি , ওই ছাত্রীর প্রতি তার দুর্বলতা ও প্রাইভেট পড়ানো। পরবর্তিতে তার ক্ষমা প্রার্থনার পর তদন্ত কমিটি কয়েকটি সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে।সুপারিশ গুলো হলো –

১ । শিক্ষক দীপক কুমারকে তার কৃতকর্মের জন্য সতর্ক করা এবং ভবিষ্যতে  এমন কোন কিছু হবেনা  এই মর্মে অঙ্গীকার নামা গ্রহন।

২। ওই লেভেলের সকল প্রকার ক্লাস থেকে তাকে বিরত রাখা এবং

৩।আগামি এক বছর উল্লেখিত ব্যাচের প্রশ্নপত্র তৈরি ও খাতা মূল্যায়ন থেকে বিরত রাখা ।

এ ব্যাপারে বর্তমান রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড মোঃ সফিউল ইসলাম বলেন এরই মধ্যে বিগত প্রশাসন তৎক্ষণাৎ কিছু ব্যবস্থা গ্রহন করেন , বাকি গুলো খুব শিগ্রই বাস্তবায়ন করা হবে । এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সকল মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং সকলকে সকল প্রকার উস্কানি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে । উল্লেখ্য তদন্ত কমিটি গঠন তদন্ত কাজের শুরু নতুন উপাচার্য নিয়োগের আগে বিগত প্রশাসনের সময় শুরু হয় ।