হাবিপ্রবিতে ডিগ্রীর দাবিতে আন্দোলন,ছাত্রীর শ্লীলতাহানিঃ আহত ৭ জন

0
3655

মুহিউদ্দিন নুর, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি এগ্রিকালচার ডিগ্রীর দাবিতে চলমান এগ্রিকালচার এন্ড এগ্রিবিজনেস বিভাগের  ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের ১৮ দিনে ৭ জন  শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে। এছাড়া আরও প্রায় বিশজন অসুস্থ হয়।

agb4
agb4

আজ সকাল থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম সহ অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ অবরুদ্ধ হয়ে পরেন। আন্দোলনরতরা তাদের ডিগ্রীর দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকে। রোজা থেকে আন্দোলন পরিচালনা করায় প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পরে কমপক্ষে ৭ জন শিক্ষার্থী।

এক পর্যায়ে তারা সাবেক ভিসি প্রফেসর রুহুল আমিনের সাথে কথা বলার জন্য তার  কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং এ সময় কতিপয় শিক্ষকদের সাথে আন্দোলনকরীদের কথা কাটাকাটি  হয়। এ ঘটনার এক পর্যায়ে  কয়েকজন শিক্ষক ২ জন ছাত্রীকে থাপ্পড় দেন এবং একজনের ওড়না ধরে টান দেন বলে মিডিয়া ও প্রশাসনের কাছে  অভিযোগ করেন ওই ৩ ছাত্রী, এ সময় এক ছাত্রীর বোরখা ছিরে যায় এবং একজনের বুকে হাত দিয়েও সরিয়ে দেয়া হয়  বলে তারা জানান  ,  কয়েকজন ছাত্রও এতে  আহত হয় বলে জানা যায় । আন্দোলনকারীরা  শ্লীলতাহানীর অভিযোগে ৫০০ জনের সাক্ষ্যর সহ  উপাচার্য  বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগ পত্রে ১১ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়। শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া ছাত্রীরা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এর বিচার দাবি করেন। তারা বলেন শিক্ষকরা আমাদের গুরুজন ,বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এ ধরনের আচরন মেনে নেয়া যায়না । এই বিচারের দাবিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদের শিক্ষার্থীদেরও সাহায্য প্রার্থনা করেন ।

agb
agb

উল্লেখ্য যে, হাবিপ্রবিতে বিএসসি ইন এগ্রিকালচার এন্ড এগ্রিবিজনেস ডিগ্রীর অধীনে ২০১৩ইং সাল থেকে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হলেও ডিগ্রীটি পিএসসি অনুমোদিত না হওয়ায় তারা কোন সরকারি বা বেসরকারি চাকরির সুযোগ থাকছেনা। তাই ডিগ্রীটি পরিবর্তন করে বিএসসি ইন এগ্রিকালচার ডিগ্রীতে রুপান্তরের দাবিতে টানা ১৮ দিন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন সহ নানা কর্মসূচীতে আন্দোলন করে আসছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আবুল কাশেম সাংবাদিকদের জানান, ১৩ তারিখে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং এ ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।