মন্ত্রীর উপস্থিতিতে দিনাজপুরে জেলা মহিলা লীগের দুগ্রুপের হাতাহাতিতে সম্মেলন ভন্ডুল

0
61

মুহিউদ্দিন নুর, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ  প্রায় ১৪ বছর পর দিনাজপুরে জেলা মহিলা লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভক্ত দুটি গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা, বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ও ঘন ঘন পটকা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। এই সম্মেলনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হয়েছে। সম্মেলনস্থল নাট্য মহিলা লীগের হাতাহাতিসমিতিকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক মহিলা ও পুরুষ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কোন প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়াই সম্মেলন ভন্ডুল হয়ে যায়।
বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলা মহিলা লীগের কোন প্রকার সভা ও নির্দেশনা ছাড়াই এ সম্মেলন আহবান করা হয়। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় স্থানীয় নাট্য সমিতি মিলনায়তনে সম্মেলন হওয়ার কথা। সেই সম্মেলন সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী  মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। বিশেষ অতিথি ছিলেন দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ)  ইয়াসমিন হোসেন ও কেন্দ্রীয় সদস্য স্মৃতি কনা। জেলা মহিলা লীগের সহ-সভাপতি লুলু আফসারের সভাপতিত্বে সভা শুরুতেই সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহের সুলাতানা, মির্জা শিরিন, আলেয়া বেগম, শহর মহিলা লীগের আহবায়ক খ্রীষ্টিনা লাভলী দাস প্রতিবাদী হয়ে উঠেন ও বক্তব্যে বলেন, গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে জেলা মহিলা লীগের কোন প্রকার সভা ও নির্দেশনা ছাড়াই ও কোন প্রকার প্রচারাভিযান না করে এ ধরণের পকেট কমিটির সম্মেলন মেনে নেয়া যায় না। তারা এ সম্মেলনকে অবৈধ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী আখ্যা দিয়ে সভাস্থল থেকে চলে আসেন। মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মী সম্মেলনের ব্যানার ছিড়ে ফেলে। শহর আওয়ামী লীগের আহবায়িকা খ্রীষ্টিনা লাভলী দাস, যুগ্ন আহবায়িকা সেহেলী আক্তার ছবি, মহিলা নেত্রী সম্পা দাস মৌ এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল সম্মেলন স্থলে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেট সৃষ্টি করে। পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙ্গে বিক্ষুদ্ধরা সম্মেলন ও পকেট কমিটি মানি না মানবো না ম্লোগানে ম্লোগানে ভিতওে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পরেই চারিপাশ থেকে পটকার বিস্ফোরন শুরু হলে মহিলা নেতাকর্মীরা দৌড় ঝাপ শুরু করে। শহর মহিলা লীগের যুগ্ন আহবায়িকা সেহেলী আক্তার ছবি অভিযোগ করেন পটকা ফাটিয়ে অবৈধ সম্মেলনকে বৈধ করা যাবে না। মহিলা লীগের গঠনতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।
প্রধান অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যাদেরকে কমিটিতে চাইবে তারাই হবে এ কমিটির সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও জেলার নেতৃত্ব দিবেন। মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন  হোসেন বক্তব্যে অভিযোগ করেন ১৪ বছর ধরে জেলা কমিটি গঠন করা হয়নি। জেলার সভাপতি ও সম্পাদক কুক্ষিগত করে রেখেছে এই কমিটি। গণতন্ত্র বিকাশে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলন শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী পুলিশ ব্যারিকেটের মাধ্যমে সম্মেলন স্থল ত্যাগ করেন। এদিকে জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী সাবেক এমপি সুলতানা বুলবুল ও সাধারন সম্পাদিকা তারিকুন বেগম লাবুন বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন গত ২৩ জুন’১৬ কেন্দ্রীয় কমিটি দিনাজপুর জেলা মহিলা লীগের তারিখ নির্ধারন করে। রাজনৈতিক কারনে তা স্থগিত করে। পরবর্তীতে আর কোন তারিখ কেন্দ্রীয় কমিটি তারিখ নির্ধারন করেননি। হঠাৎ করে ২ জন মহিলা নেত্রী এ সভা আহবান করেন। ১জন জেলা মহিলা লীগের কেউ নয় ও ১জন থাকেন ঢাকায়। এ সম্মেলন অবৈধ, অসাংগঠনিক ও গঠনতন্ত্র বিরোধী। যা সাংগঠনিক শিষ্টাচার। সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করা হয় কথিত মহিলা লীগ নেত্রী শিরিন ইসলাম চাকুরি দেয়ার নাম করে অসংখ্য মানুষের কাছে টাকা আত্মসাৎ করেছে। যার অকাট্য প্রমান আমাদের কাছে রয়েছে। আদালতে মামলা হয়েছে। এরকম একটি বিতর্কিত ও কথিত নেত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত এ সম্মেলন মহিলা লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।  এই অবৈধ ও অসাংগঠনিক সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ করবো। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী ১৩ থানা, এক পৌরসভা ও সদর উপজেলা সাংগঠনিক কমিটির কাউন্সিলরদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু কেউ ই এ সাংগঠনিক কমিটি কাউন্সিলর এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়াও দিনাজপুরে ২ মন্ত্রী, ১ জন জাতীয় সংসদের হুইপ ও ৩ জন এমপি রয়েছেন। সম্মেলনে সকলকে আমন্ত্রন জানানোর নিয়ম রয়েছে। এ সম্মেলনে  ১ মন্ত্রী মোস্তাফিজার রহমান ও ১ জন এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপালকে আমন্ত্রন জানানো হয় এবং তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আশরাফুন মোশাররফ এমপি মোবাইল ফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, সাংগঠনিক কমিটির কাউন্সিলররা উপস্থিত না থাকলে ওই কাউন্সিল বৈধতা পাবে না। তবে এব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করবো। সম্মেলনে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেন, রাষ্ট্রের একজন মন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন ও বাহাদুর বাজার থেকে লিলির মোড় পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। মহিলা লীগের এ সম্মেলন দিনাজপুর জুড়ে উৎসুক জনতার ভীড় ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।