ছাত্রী লাঞ্চনাকে কেন্দ্র করে হাবিপ্রবিতে আলোড়ন

0
2097

গত বছরের ছাত্রী লাঞ্চনার অভিযোগের  ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযুক্ত ব্যক্তি  হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপক কুমার । বিগত ২০১৪ সালের  প্রথম বর্ষের  শেষের দিকের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় বর্ষের শেষের দিকে   ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন ছাত্রী তার বিরুদ্ধে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ আনেন। বিষয়টি নিয়ে ওইসময় আলোচনার ঝড় উঠলেও তৎকালীন প্রশাসন এই তথ্য মিডিয়ায় প্রচারে বাধা প্রদান করেন ও বিষয়টি ধামাচাপা পরে  যায়  তবে  শিক্ষার্থী ও কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার দাবির  কারনে ওই শিক্ষককে ওই লেভেলের সকল প্রকার ক্লাস পরীক্ষা ও ভাইভা থেকে দূরে রাখা হয় পাশাপাশি ২০১৬ সালের ২২ ও ২৪ সেপ্টেম্বরে লিখিত অভিযোগ পেয়ে বিভাগীয় প্রধান ডিন ড. ফাহিমা খানম ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউমিনিটিস অনুষদে

exclusive
exclusive

র ডিন ড. ফাহিমা খানমকে চেয়ারম্যান এবং সহকারী প্রফেসর শফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রফেসর ড. বলরাম রায়, প্রফেসর ড. এটিএম শফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. হারনুর রশিদ। এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল নতুন করে একজন রিপোর্টারের সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকটি মিডিয়ায় যৌন হয়রানির খবর প্রকাশিত হয় । এসব খবরের সুত্র ধরে আজ সারাদিন এ নিয়ে দিনভর সময়েরপাতা সহ কয়েকটি মিডিয়ার সাথে তদন্ত কমিটি , অভিযোগকারি  সহ অভিযোগকারির বান্ধবিদের সাথে কথা হয় । কালকের খবরে সহকারী প্রফেসর শফিকুল ইসলামকে উল্লেখ করে অভিযোগ আনা হয় কিন্তু আজ তদন্ত কমিটির  সদস্য সচিব শফিকুল ইসলামকে ফোন দিয়ে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করা  হলে তিনি বলেন সাংবাদিকরা তো অনেক কিছুই লিখে , তারা কি লিখছে তা আমি এখনো দেখিনি  আপনি আমার চেম্বারে আসেন বিস্তারিত বলবো। এতো বড় ঘটনা যা ক্যাম্পাসের সবাই দেখলো তিনি তা এখনো  না দেখার কথা বলায় কিছুটা আশ্চর্য হওয়ারই কথা । এরপর তার চেম্বারে গেলে তিনি বলেন এটা একটা গোপন বিষয় , আমরা তদন্ত করে রিপোর্ট অথোরিটিকে দিয়েছি ।তারাই ভালো বলতে পারবেন এ ব্যাপারে আমার কোন কিছু বলার অধিকার নেই এবং প্রকাশ করাও ঠিক হবেনা  কিন্তু কালকের ব্যাপারে তার দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান আমি ওই সাংবাদিককে অনেক কিছু বলেছিলাম কিন্তু উনি শুধু আমার  ওই  মন্তব্য টুকু  ছেপেছেন ।আর তারা যৌন হয়রানি বলতে কি বুঝিয়েছেন আমি জানিনা ।  আমি তাকে ভিক্টিম ও   অথোরিটির সাথে কথা বলতে বলেছিলাম । এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির একজন গুরুপ্তপুর্ন সদস্য জানান সাংবাদিকের পক্ষ থেকে আমাকেও ফোন দিয়েছিল, উনি শুধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে রিপোর্ট কবে জমা দেয়া হয়  কিন্তু অভিযোগ সত্য না মিথ্যা  সে বিষয়ে আমাকে কিছুই জানতে চাওয়া  হয়নি । প্রতিবেদন দেখে আমি রীতিমত অবাক । এদিকে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকরা আজ অভিযোগকারি দুই শিক্ষার্থীর সহপাঠি ও জুনিয়র দের সাথে এ নিয়ে কথা বলেন , এ ব্যাপারে তাদের সহপাঠিরা জানান যারা এসবের স্বীকার তারা এসব খবর দেখে সামাজিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন । তারা বলেন বিষয়টি তৎকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাধান করে দেয়া হয় আমাদের দাবি অনুযায়ী উনি আমাদের লেভেলের কোন ক্লাস , পরীক্ষা বা ভাইভা নেন না । এ ব্যাপারে ১৫ তম ব্যাচের মেয়ে সিআর বলেন আমি স্যারের রুমে প্রায়  সময় একা যাই আমার কখনো এমন মনে হয়নি হয়তোবা উনি ওই ঘটনার উনি পরিবর্তন হয়েছেন , আমার কাছে যা মনে হয়েছে আমি তাই বললাম। সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো অনেক চেষ্টার পর সময়ের পাতার পক্ষ থেকে একজন ভিক্টিমের(সামাজিক দিক বিবেচনা করে নাম প্রকাশ করা হলোনা  ) সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।  ওই ছাত্রী বলেন আমি এসব খবরের বিষয়ে কিছুই জানিনা , কোন সাংবাদিকের পক্ষ থেকেই আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি বা আমার পারমিশন নেয়া হয়নি । হঠাত করে কিভাবে এসব হলো আমি জানিনা । আমি এসব নিয়ে অনেক বিরক্ত , আমার কাছের মানুষরা আমাকে বার বার লিঙ্ক পাঠিয়ে এসব জানতে চাচ্ছেন। আর সে বলে আমার এক বান্ধবী আমার অনুমতি না নিয়েই লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল যেখানে আমার কোন স্বাক্ষর নেই । আর আমি ক্যাম্পাসে সব সময় যাওয়া আসা করতেছি এসব কে কেন্দ্র করে আমাকে ভয় ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ মিথ্যা অন্যদের কথা বলতে পারবোনা ।  তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী জানান রিপোর্টের ভিত্তিতে  বর্তমান প্রশাসন  সঠিক পদক্ষেপ নেবে এটাই কামনা । এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি । তবে তিনি ইতোমধ্যে আমাদের সময় পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে গুজব শোনা গেছে ।