কুড়িগ্রামে হুমকির মুখে 200 বছরের পুরনো সোনাহাট ব্রীজ

0
64

সময়ের পাতাঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় 200 বছরের পুরোনো সোনাহাট লোহার রেল সেতুর ওপরের বিভিন্ন অংশে ছোট ছোট ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এক পাশের সংযোগের সড়কের মাটি ধসে পড়ছে। অতিরিক্ত ওজনের কয়লা ও পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল এবং দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটির ভগ্ন অবস্থায় রয়েছে।সোনাহাট ব্রীজ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মধ্যে রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে দুধকুমার নদের ওপর সেতুটি তৈরি করা হয়। এর দৈর্ঘ্য ৪০০ মিটার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনী বোমা মেরে এর একটি অংশ উড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার স্টিলের পাত বসিয়ে সেতুটি মেরামত করে সড়ক যোগাযোগ চালু করে।
বছর খানেক আগে সোনাহাট স্থলবন্দর চালু হওয়ার পর আমদানিকারকেরা ভারতের আসাম ও নাগাল্যান্ড থেকে আনা কয়লা ও পাথর ওই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন। যানবাহনও এ সেতুর ওপর দিয়েই চলাচল করে। ট্রাক ছাড়াও নদের পূর্ব পারের সোনাহাট, হলদিয়া, বল্লভের খাস, কচাকাটা ও কেদার নামক পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা বসবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে জেলা ও উপজেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করছেন। এ সেতুটি ছাড়া তাঁদের যোগাযোগের আর কোনো মাধ্যম নেই। সোনাহাট স্থলবন্দরে থেকে আসা কয়লা ও  পাথরবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় সেতুর অবস্থা এখন আরও নাজুক হয়ে গেছে। এ ছাড়া  বর্ষায় উজানের তীব্র স্রোতে সেতুর পূর্ব পাড়ের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দেয়।  তাৎক্ষণিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সওজ বালুর বস্তা ফেলে ওই ভাঙন রোধ করে। কিন্তু এখনো সংযোগ সড়কের মাটি ধসে পড়ছে। তাই সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়  রয়েছে।
সওজ এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন সেতু মুখে ঝুঁকিপূর্ণ লেখা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানালেও এ পথেই চলাচল করছেন ট্রাকচালক, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় 8০ থেকে ৯০টি কয়লার ট্রাক এ সেতু দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। কোনো ট্রাক যেন পাঁচ টনের বেশি কয়লা নিয়ে এবং এক সঙ্গে একাধিক ট্রাক সেতুতে না ওঠে সে জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। কিন্তু সতর্কতার বার্তা উপেক্ষা করে আট-দশ টন ওজনের কয়লা নিয়ে ট্রাক চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়তে পারে। এতে সোনাহাট স্থলবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।