কাজী সাহেবের কূকীর্তি

0
4

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ জেলার পাটগ্রাম উপজেলাধীন বুড়িমারী স্থলবন্দর আলিম মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট,কাজী সাহেবের কূকীর্তি
পাটগ্রাম ঈমাম সমিতি’র সভাপতি মাওঃইউনূছ আলী’ কাজীর বিরুদ্ধে একেরপরএক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ও নারী কেলেংকারীর মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ উঠেছে। শরিয়ত মোতাবেক কাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবিদার এক গৃহবধূ সম্প্রতি গোপন সব তথ্য ও কুকীর্তি ফাঁস করেনন।গত ১৫ দিন আগে পাটগ্রাম পৌরসভার রহমানপুর এলাকায় কাজীর বাড়ীতে স্ত্রী’র মর্যাদা চাইতে গিয়ে বেদম মারপিট ও অমানসিক নির্যাতনের শিকার হোন ওই গৃহবধূ।ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত আত্মগোপনে আছেন ওই কাজী।

জেলা মুফাসসীর কমিটি’র সভাপতি হিসেবে পরিচিত পাটগ্রাম পৌরসভার ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের কাজী মাওঃ ইউনূছ আলী’র অফিসে নব বধূর বাসর ঘরসহ কাজী অফিসটি পাটগ্রাম বাইপাস মোড়ে। সেখানে গত ১৭/৬/২০ তারিখে নিজ স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেন পাটগ্রামের বেংকান্দা গ্রামের জনৈক শাহীন।সংসার জীবনে স্ত্রী’র সাথে বনিবনা নেই।অভাব অনটনে প্রায় ১৬ বছরের সংসার জীবনে তিনটি সন্তানের জন্ম হলেও স্বামী-স্ত্রী যেন দা-কুড়াল সম্পর্ক।স্বামীর তালাক নামা হাতে পেয়ে স্ত্রী যোগাযোগ করেন কাজী অফিসে।সংসারে স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা যাই হোক,আদরের তিন সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও সংসার করতে চান সেই গৃহবধূ।
এ ব্যাপারে বুদ্ধি পরামর্শ নিতে একদিন কাজীর দেখা করেন।বিয়ের সময় দেনমোহর ৭৫ হাজার টাকার স্থলে ৩৫ হাজার টাকা দেনমোহর কেন লেখা হয়েছে তা কাজীর কাছে জানতে চান।এসময় কাজী বলেন,যে স্বামী তালাক দেয় তার চিন্তা বাদ দেন।
সেই থেকে পরিচয়।এরপর মোবাইলে চলে কথাবার্তা।তিন সন্তানের জননী সুন্দরী গৃহবধূ তালাক হতে যাচ্ছে।এরই মধ্যে পুলিশের হস্তক্ষেপে একদিন স্বামী স্ত্রীকে আবার মিল করে দেয়ার জন্য সমাজের গন্যমান্য লোকজন নিয়ে বৈঠক হয় থানায়।সেখানে মীমাংসা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন সমাজ।ইতোমধ্যে কাজী প্রেম নিবেদন করেন গৃহবধূ ওই সুন্দরীকে।কাজীর ডাকে একদিন ওই গৃহবধূ কাজীর বাড়ীতে গেলে সেখানে কাজী ওযু করে পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ আরবী কায়দা’ বইয়ের একটা ছেড়া পাতা ছুঁয়ে গৃহবধূ’র সামনে শপথ করে শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়ে গেলো বলে সৃষ্টিকর্তার দোহাই দেন। জোরপূর্বক জোরাজোরি করেন।সেদিন কাজীর স্ত্রী বাসায় ছিলেন না বলেও জানান ওই গৃহবধূ।এরপর আরও বিভিন্ন জায়গায় দু’জনে দেখা করেন।রংপুরে যান।ঢাকা যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট করেন কাজী কিন্তু ঢাকা যেতে রাজী হোননি ওই গৃহবধূ।
গৃহবধূকে জীবনে ঠকাবেন না।স্ত্রী’র মর্যাদা দিবেন। এমন আশা দিয়ে তার আগের স্বামীকে ডিফোর্স দিতে বাধ্য করেন কাজী এমন তথ্য মিলেছে।সন্তানদের ভালোবাসায় মায়া মহব্বতে স্বামীর বাড়ীতে চলে যান ওই গৃহবধূ ।সেখানে ফোন দিয়ে গৃহবধূ’র স্বামীকে আজেবাজে কথা বলেন নারী লোভী কাজী ইউনূছ।এমন সব গোপন কান্ডকীর্তি তুলে ধরেন যেন স্বামী তার স্ত্রীকে মেনে না নেন।সেই গৃহবধূ স্বামী কর্তৃক বেদম মারপিট করেন।পাটগ্রাম হাসপাতালে থাকা ওই গৃহবধূ জানান,তার স্বামী তাকে গত ৯ তারিখ লাঠি দিয়ে রক্তাক্ত করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।৯ ও ১০ ফ্রেব্রয়ারি দুই দিন হাসপাতালে থাকার পর গৃহবধূ হাসপাতাল থেকে ১১ তারিখে চুপ করে রাতে কাজীর বাড়ীতে গিয়ে কাজীর দেখা করতে চান।
এমন সময় কাজীর লোকজন তাকে বেদম মারপিট করে।অমানসিক নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ’র শরীর ক্ষত বিক্ষত হয়।রক্তাক্ত অবস্থায় হাতে থাকা বিষ পানে আত্মহত্যার চেস্টা করেন গৃহবধূ।

নিজের স্ত্রীকে ফেসবুক প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ল স্বামী


সে দিন ১১ তারিখ রাতে পাটগ্রাম থানা পুলিশের পিক আপ ভ্যানের সাহায্যে একজন মহিলা পুলিশের সহায়তায় অচেতন অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় রাত ১২ টা ১০ মিনিটে।
হাসপাতাল রেজিস্টারে শাহরিয়ার নামে এক যুবকের নাম ভর্তি করান বলে উল্লেখ থাকলেও কাজটি করেন নাম পরিচয় দিতে অপারগ আ’লীগের এক বড় নেতা।
গৃহবধূ সুস্থ্য হতে না হতেই, দেহের ক্ষত না শুকাতেই তড়িঘড়ি করে নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মীমাংসা করার কথা এ ঘটনায় দুই পক্ষ বিচারের দায়িত্ব নেন।পরবর্তীতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন লিপু’র মাধ্যমে বিচারে তিন লাখ টাকা পান ওই গৃহবধূ।
কাজীর মত পাপী একজন গৃহবধূকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইজ্জত লুন্ঠনসহ বেদম মারপিটের মত ঘটনা ঘটিয়ে মাত্র তিন লাখ টাকার বিনিময় যদি আইনের আওতার বাহিরে থাকেন তাহলে সমাজের নির্যাতিতরা যাবেন কোথায় এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান লিপু’র ফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোনে সংযোগ মিলেনি।নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ পাটগ্রাম হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন।তার অবস্থা চরম সংকটাপন্ন। ডাঃ কালী প্রসাদ রায় জানান,হাসপাতালের ১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ বিষ পান করেছিল।আশঙ্কাজনক অবস্থায় পুলিশের গাড়ীতে হাসপাতালে আনা হয়।স্বামী সন্তান কেউ দেখতে আসেনি।কাজীর বাড়ীতে অমানসিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ’ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে না পারায় অসুস্থতা বিবেচনা করে ক্যাথেটার লাগানো হয়েছিল।উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে মাওলানা ইউনূছ আলীর সাথে ফোনে কথা হলে বলেন, সুন্দরী ওই গৃহবধূ তো দূরের থাক,কোন নারীর সাথে তার কোন সম্পর্ক নাই।তিনি আরও বলেন,ওই গৃহবধূ তার বিরুদ্ধে কারও প্ররোচনায় ষড়যন্ত্র করছেন।জীবনে অনেক পরিশ্রমের বিনিময় তিনি আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বলে সে সুবাদে ৫ তলা ফাউন্ডেশন একটি ফ্লাট বাসার তিন তলা পর্যন্ত কাজ শেষ করেছেন।নানা কারনে অনেকে তার শত্রু হতে পারে এমন দাবী করেন।
এদিকে,অনুসন্ধানে জানা যায়,বিভিন্ন জন বিভিন্ন সময় তার খপ্পরে পড়েছেন। পাটগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বেশ ক’জন নারী তার কাছে তাবিজ কবচ পানি পড়া তেল পড়া নিয়েছেন।জ্বীন-পরী নামানো এসব ছলনা তার নিত্যদিনের কাজ।