যৌবন হারাচ্ছে তিস্তা, চাষাবাদ বন্ধের আশংকা

0
37

ডেস্ক রিপোর্টঃ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে ঘিরে আবারও আশায় বুক বেঁধেছে তিস্তা পারের মানুষ। তারা মনে করছে এই সফরে ৪৫ বছরের অমিমাংসীত পানি বন্টন চুক্তি আলোর মুখ দেখবে। ছিটমহলবাসীদের মত দুঃখ ঘুচবে তাদের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘তিস্তা পাড়ের কৃষি বাঁচানোর এখন একমাত্র উপায়ই হলো তিস্তা চুক্তি’।

তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনায় পার হয়েছে কয়েক বছর। এই সময়ে তিস্তা হারিয়েছেন তার যৌবন। ১৯৯৩ সালে সেচ প্রকল্প শুরুর সময় গ্রীষ্ম মৌসুমে তিস্তায় পানি থাকতো ৭ থেকে ৯ হাজার কিউসেক কিন্তু দিন দিন পানি কমে দাঁড়িয়েছে মাএ ৪০০ কিউসেক।

এলাকাবাসীর দাবি তিস্তা নদীর যা বেঁচে আছে তা টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তারা দুই দেশেকে বৈঠকের মাধ্যমে তিস্তার পানি চুক্তিকে একটি পর্যায়ে নিয়ে আসার আহ্বান জানান। চাষীরা বলেছে, ‘পানি চুক্তি না হলে নাব্যতা হারাবে তিস্তা। চাষাবাদ বন্ধ হবারও আশঙ্কা রয়েছে’।

রিভারাইন পিপল এর পরিচালক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘সরকার ছিটমহলের মত জটিল বিষয়ের সমাধান করতে পারলে, তিস্তা চুক্তিরও সমাধান করতে পারবে। কেননা এটা ছিটমহলের চেয়েও সহজ’।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকেীশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা পানি চুক্তি হলে সেই হিসেবে আমরা কাজ করতে পারবো’। তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও আন্দোলন পরিষদের কার্যকরি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘২০১১ সালে যখন দুই দেশ আলোচনায় বসে তখন আমাদের সরকার ব্যর্থ হয় আর ভারত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। তবে এবার আশাবাদী হলেও শঙ্কা কিছুটা থেকেই যায়’।

তিস্তায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ থাকলে পানি থাকবে আরও ২০ টি শাখা নদীতে আর না থাকলে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।