যে কারণে হত্যার শিকার হলেন নারী সাংবাদিক সুবর্ণা

0
8

সময়ের পাতা ডট কম. স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করার কারণেই হত্যার শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদী (৩২)। যেটি এখনও আদালতে বিচারাধীন। এমনটাই দাবি করেছেন নিহত সুবর্ণার বড় বোন চম্পা খাতুন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চম্পা জানান, তিন-চার বছর আগে স্থানীয় আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সুবর্ণার। কিন্তু বছরখানেক আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন সুবর্ণা। মামলায় সাবেক স্বামী রাজীব ও তার পিতা আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করেন সুবর্ণা। মঙ্গলবার এ মামলার সাক্ষ্য দেয়ার তারিখ ছিল। এতে সুবর্ণা তার পক্ষে আদালতে সাক্ষ্যও উপস্থাপন করেন।

চম্পার দাবি, মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে সুবর্ণাকে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাসার সামনে নারী সাংবাদিক সুবর্ণা নদীকে কুপিয়ে হত্যার করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে আটক করেছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, পাবনা পৌর সদরের রাঁধানগর মহল্লায় আদর্শ গার্লস হাইস্কুলের সামনে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে বাসার সামনেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে না পারলেও কয়েকটি ইস্যু নিয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাবনার ইদ্রাল ইউনানি কোম্পানি ও শিমলা ডায়াগনস্টিকের মালিক আবুল হোসেনকে আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

সুবর্ণা নদী পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে। আনন্দ টিভির পাশাপাশি তিনি স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ‘দৈনিক জাগ্রতবাংলার’ সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। রাজীবের সঙ্গে বিয়ের আগেও তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তার ৬ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।