যেভাবে জীবন চলে নওগাঁর পঙ্গু এজাদুলের

0
23

আওরঙ্গজেব হোসেন রাব্বী.রাণীনগর,নওগাঁঃ
হতদরিদ্র ঘরের সন্তান এজাদুল (৩৮) । অর্থাভাবে লেখা পড়া করতে পারেননি তিনি। পড়া-লেখা
ছেরে দিয়ে অন্যের বাড়ীতে কাজ করে সংসার
চালাতেন। কিন্তু নিয়তির কি খেলা ! কাজ করার
সময় দেয়াল চাপা পরে মেরুদন্ড ভেঙ্গে যায় ।
অর্থ না থাকায় চিকিৎসাভাবে গত ৭ বছর ধরে
পঙ্গুত্ব বরণ করে কখনো মাদুর তৈরি,কখনো সিমিত
আকারে হাঁস-মূরগী পালন আবার কখনো সিদ্ধ
ডিমের ব্যবসা করে । পঙ্গুত্বের কারনে ব্যবসার
প্রসার ঘটাতে ব্যাংক ,এনজিও বা সমিতি থেকে
কোন ঋন পাননা তিনি। ফলে ছোট-খাটো ব্যবসা
করেই এক মা,স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনমতে খেয়ে
না খেয়ে জীবন চলছে তার । এজদুল রাণীনগর
উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের করজগ্রাম উত্তর
পাড়া গ্রামের জনাব আলীর ছেলে ।
তিনি জানান,দরীদ্র সংসারে জন্ম নেয়ায় কোন
মতে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়া লেখা করে
অর্থাভারে পড়া শুনা বন্ধ হয়ে যায় । মাত্র ১২ বছর
বয়সে সংসারের ঘানি পরে তার ঘারে। অন্যের
বাড়ী বাড়ী কাজ করে যে ক’টাকা পায় তা
দিয়েই দিব্য সংসার চলতো । কিন্তু নিয়তির কি
খেলা গত ৭ বছর আগে একই গ্রামে মাটির বাড়ীর
কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতা বসত: দেয়াল
চাপা পরে মেরুদন্ড ভেঙ্গে যায় । চিকিৎসা ব্যায়
সামাল দিতে না পেরে অবশেষে অসহায় হয়ে
পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় তাকে। মাত্র ৩শতক জায়গার
উপর একটি বাড়ী করে মাথা গোঁজার ঠাই করে
আছেন। সংসার জীবনে মা,স্ত্রী ও এক মেয়ে
রয়েছে । মেয়ে স্থানীয় স্কুলে ৮ম শ্রেনীতে
পরে। পঙ্গু হবার পর থেকেই একটি আধা ভাঙ্গা
হুইল চেয়ারে বসে শীতের সময় নিকটস্থ বাজারে
সিদ্ধ ডিম বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়।
সারা দিন বেচা-কিনা করে যে এক-দেড়শ টাকা
আয় হয় তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে মেয়েটার
লেখা-পড়া চালাতে হয়। অনেক সময় বিছানায়
বসে মাদুর তৈরি করে। স্ত্রীর পালন করা হাঁস-
মূরগীর ডিম থেকেও কিছু টাকা আয় হয় । এনিয়ে
কোন মতে খেয়ে না খেয়ে চলে তাদের সংসার
জীবন। এর পাশা-পাশি দর্জির কাজ জানা
থাকলেও সেলাই মেশিন কিনতে না পারার
কারণে সেটাও থমকে গেছে। কোন সংস্থা
থেকে ঋন নিয়ে যে সেলাই মেশিন কিনবে অথবা
ব্যবসার প্রসার ঘটাবে তা কপালে জোটেনা ।
কারণ,কোন ব্যাংক,এনজিও বা সমিতি থেকে
তাকে ঋন দেয়া হয় না । একাধিক সংস্থায়
আবেদন করেও কিস্তি দিতে পারবেনা এমন
আশংকায় তাকে ঋন দেয়া হয়নি। তার আকুতি,
যদি সাধ্য মতো পুঁজি তাকে দেয়া হয় তাহলে
হয়তো মেয়ের লেখা-পড়াসহ সংসারটা ভাল চলতো

এব্যাপারে কালীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান
সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল জানান,ইতি মধ্যে
তাকে একটি পঙ্গু ভাতার কার্ড করে দেয়া
হয়েছে যদিও তা একটি সংসার চলার ক্ষেত্রে
অতি নগন্ন। আমি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের
সাথে কথা বলে তার জীবন-জীবিকা চলার জন্য
সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো।