বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

0
19

টঙ্গীতে আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জোন-১ এর টঙ্গী কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতিমূলক পর্যালোচনা সভা।সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে ও কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারি, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম আলম, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশিদ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আসাদুর রহমান কিরণ, বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেজবাহ উদ্দিনসহ বিশ্ব ইজতেমার কাজে নিয়োজিত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।উক্ত সভায় প্রশাসন, এলজিইডি, বিদ্যুত্, গ্যাস, রেল কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথসহ সরকারের সকল বিভাগের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেন, বিশ্ব ইজতেমার দু’পর্ব যাতে সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি সে লক্ষ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই প্রস্তুতিকাজ সম্পন্ন হবে।সভাপতির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমাদের ৫১তম বিশ্ব ইজতেমা সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আসন্ন ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা ও মুসল্লিদের মিলন মেলা সুশৃংখলভাবে সমাপ্ত করার জন্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পুলিশ, র্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিসসহ সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তিনি সবসময় বিশ্ব ইজতেমার খোঁজ-খবর রাখছেন। যাতে মুসল্লিদের কোনো প্রকার সমস্যা না হয়। তিনি আরো বলেন, বিদেশি মেহমানদের নিরাপত্তায় আইন-শৃংখলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।অতিরিক্ত আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে ইজতেমায় আগত সকল মুসল্লির ইজতেমায় অংশগ্রহণ করতে বিমানের ফিরতি টিকিট নিয়ে ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। যেসকল বিদেশির ফিরতি টিকিট থাকবে না তাদেরকে ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বিশ্ব-ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতির প্রায় ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ তারিখের মধ্যে ইজতেমার সকল প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হবে। ইজতেমায় আইন-শৃংখলা রক্ষার ব্যাপারে গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ইজতেমা উপলক্ষে দু’পর্বে ১২ হাজার পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ইজতেমা ময়দানের প্রতিটি গেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ইজতেমা ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারপাশে স্থাপিত র্যাবের ১০টি ও পুলিশের ৫টি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। ৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স সবসময় প্রস্তুত থাকবে।এছাড়াও সাদা পোশাকের ৭-৮শ’ পুলিশ সদস্য ময়দানে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। আগত মুসল্লিদের চিকিত্সা সুবিধা প্রদানের ব্যাপারে গাজীপুর সিভিল সার্জন আলী হায়দার বলেন, টঙ্গী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়াও অ্যাজমা ইউনিট, বার্ন ইউনিট, হার্ট ইউনিট টঙ্গী হাসপাতালে চালু থাকবে। তিনি আরো বলেন, ইজতেমা মাঠে প্রবেশ রাস্তাগুলোতে একটি করে ৬টি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ক্যাম্পে ২ জন করে ডাক্তার ৩টি শিফটে ২৪ ঘণ্টা মুসল্লিদের চিকিত্সা সেবাদানে নিয়োজিত থাকবে এবং পর্যাপ্ত ওষুধ এর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স ২৪ ঘণ্টা মুসল্লিদের চিকিত্সা সেবায় নিয়োজিত থাকবে।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো: আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ময়দানের আশপাশে জীবাণু প্রতিরোধে ১শ’ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ময়দানের চারপাশে ১০টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। ময়দানের আশপাশে ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালে সিনেমা হলগুলো বন্ধ ও দেয়ালে সাঁটানো অশ্লীল পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ময়দানের মশক নিধনের জন্য ২৪টি ফগার মেশিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক ১২টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন ঘণ্টায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।