বদলে গেছে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের জনপদগুলো

0
14

সৌরভ কুমার ঘোষ : এক সময় সীমাহীন দুঃখের সাগরে ভাসছিলো কুড়িগ্রামের চরগুলোর অধিবাসীরা। সেখানে হতো না ফসলের আবাদ। সেই সঙ্গে ছিলো কর্মসংস্থানের অভাব, হতদরিদ্র করে রেখেছিলো জনপদগুলোকে। কিন্তু সেই চালচিত্র এখন বদলে গেছে। কাজের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হওয়ায় বেড়েছে আর্থিক সামর্থ্য, কমেছে অভাব।

ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও গঙ্গাধর এই পাঁচটি অভিন্নসহ ১৬টি নদনদী বেষ্টিত কুড়িগ্রাম জেলায় রয়েছে শতশত দ্বীপচর। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই চরবাসীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কয়েক বছর আগেও ছিল দুর্বিসহ। বন্যায় ভাসতো, খরায় পুরতো আর শীতে কাঁপতো তারা। চকচকে বালুতে ফসল ফলতো না। ছিল না কাজের কোন সুযোগ। আর খাদ্যাভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। ফলে প্রথম মৌসুমে মঙ্গার শিকার হতো তারা।

আর এখন সেই চিত্র বদলে কৃষিসহ নানা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন চরবাসীরা।

সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি এনজিও’র খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কার্যক্রম চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে বলে জানালেন কুড়িগ্রাম সলিডারিটি প্রকল্প পরিচালক মোর্শেদা বদরুন্নেসা বিথি।

ভিটা উঁচু করে দেয়ার কারণে বন্যার সময় বাড়িঘর ছাড়তে হয় না চরবাসীদের। সেই সাথে বিভিন্ন ধরণের ফসল আবাদ হওয়ায় এখন আর মঙ্গা নেই বলে জানালেন কুড়িগ্রাম চিলমারী নয়ারহাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু হানিফা।

এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দক্ষতা বৃদ্ধিতে বৃত্তিমূলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে চরবাসীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

চরজীবিকায়ন কর্মসূচির দেয়া তথ্যানুযায়ী জেলায় ৪শ’ পাঁচটি দ্বীপচর রয়েছে। এর মধ্যে ২শ’ ৬৯টি দ্বীপচরে প্রায় সত্তর হাজার পরিবারে সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস।

তথ্যসূত্র: সময় টিভি