নওগাঁয় হ্যাকার চক্রের ৩ সদস্য আটক

0
40

সময়ের পাতা,নিজেস্ব প্রতিনিধি:নওগাঁয়সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।এসময় পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি কম্পিউটার, একটি ল্যাপটপ ও একটি মডেম জব্দ করা হয়।সোমবার ভোররাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।আটককৃতরা হলো নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়ীয়া মহল্লার রেজাউল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম টুটুল (২৫), হাট-নওগাঁ সাহেবপাড়া মহল্লার মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে সালেকুর রহমান মানিক (২৩) এবং কালীতলা মহল্লার আজিজার রহমানের ছেলে আকতারুজ্জামান অবুঝ (২২)।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশিদুল হক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ডিএমপিতে সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু হয়।সেই মামলার প্রেক্ষিতে বিকাশ অ্যাকউন্টের সূত্র ধরে নওগাঁ জেলা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়। এরপর রবিবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশিদুল হকের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবশেষে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়।আরো জানা যায়, হ্যাকার চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল মেয়েদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে তাদের গোপন তথ্য চুরি করে জিম্মি করা।এরপর ৫শ’ থেকে ৫০হাজার টাকা পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে আদায় করা।এভাবে তারা ঢাকা ও সিলেট বিভাগ জেলাগুলোর নারীদের অসংখ্য আইডি হ্যাক করে জিম্মি করেছে।আর হ্যাকার সালেকুর রহমান মানিক তার মা পারুল বেগমের ভোটার আইডি ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকউন্ট খুলে এ টাকাগুলো আদায় করতো।তবে তারা মোবাইল ফোনে কারো সাথে কথা না বলে ম্যাসেজের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করতো।আর এ বিকাশ অ্যাকাউন্ট নাম্বারের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আতোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ডিএসবি) ফারজানা হোসেন, সদর থানার ওসি তোরিকুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন, এসআই সোহেল রানা, এসআই মাহবুব আলম, এসআই সাজেদুর রহমান, এএসআই রোকনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশিদুল হক বলেন, এ সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে জিম্মি করে বিভিন্ন জনকে ব্ল্যাক মেইল করে। এরপর বিভিন্ন সময় মোটা অংকের টাকা দাবি করে বিকাশের মাধ্যমে আদায় করে। তাদের ব্যবহৃত বিভাইসগুলোসহ হাতেনাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। যেসব ভুক্তভোগী তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিছুটা হলেও এখন পরিত্রাণ পাবে।জনগণকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আরো বেশি সচেতন হতে হবে।