দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো স্বপ্নপুরী যাত্রা

0
46

যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরের চৌগাছা উপজেলার রামকৃঞ্চপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপুরী যাবার যাত্রাকালেই দুঃস্বপ্নের কান্নায় পরিণত হয়। বিদ্যালয় থেকে হৈ-হুল্রোড় আর আনন্দের মাধ্যমে বের হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় তাদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়।

 

মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস। এলোমেলো হয়ে যায় পিকনিকের আমেজ। কেননা চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কের খড়িঞ্চা দানবাক্স এলাকায় ওই স্কুলের দুইটি পিকনিকের বাসের মধ্যে একটি উল্টে ৫ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়। বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে- বাসের মূল চালক চৌগাছা বাজারে অবস্থান করছিলো। আর তার সহকারী নিহত মিলন চালকের আসনে ছিলো।

 

দুর্ঘটনায় উপজেলার রামকৃঞ্চপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মহেশপুরের বেদবাড়িয়া গ্রামের জহুরুল ইসলাম (৪৫), অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামকৃঞ্চপুর গ্রামের নাসির উদ্দিনের মেয়ে বৃষ্টি (১৩), গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১৩), বাসচালক চৌগাছার বিশ্বাসপাড়ার মিলন হোসেন (৩০) ও খড়িঞ্চা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে পথচারী মিলন (২০) নিহত হন।

 

চৌগাছা থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, উপজেলার রামকৃঞ্চপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক-ছাত্রীরা (ময়মনসিংহ-ব-০০৫-০১০) নম্বর বাসে চড়ে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে গাড়িটি দানবাক্স এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি তালগাছে ধাক্কা খেয়ে একটি চায়ের দোকানে আঘাত হানে। এরপর গাড়িটি সড়কের উপর উল্টে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

 

তিনি আরো জানান, আহতদের মধ্যে ২০ জনকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সত্য কুমার নায়েক (৫২), দশম শ্রেণীর ছাত্রী জুই (১৫), কাজলী (১৫), নবম শ্রেণীর ছাত্র সাগর হোসেন (১৪), অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী আকলিমা (১৩), ইম্পা (১৪), ইব্রাহিম (২৫) ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরফিন চৌধুরী অভিকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

 

আহত অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আওরঙ্গজেব।

 

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এনকে আলম (সার্জারি) ও অর্থোপেডিক ডাক্তার আনম বজলুর রশিদ জানান, আহত ইব্রাহিম, সহকারী শিক্ষক সত্যকুমার, অভি ও ইম্পাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

বাসের আহত এক ছাত্রী ও শিক্ষক আজিজুর রহমান জানান, হেলপার মিলন বেপরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলো। শিক্ষার্থীরা বার বার গতি কমানোর কথা বললেও সে শোনেনি।

 

বাস শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, ওই বাসের নির্ধারিত চালক হলেন উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের বুদো দফাদারের ছেলে ইব্রাহিম। তিনি নিজে বাস চালিয়ে নিয়ে না গিয়ে হেলপার মিলনকে পাঠান। ইব্রাহিম চৌগাছা শহর থেকে বাসে উঠতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চৌগাছা শহরে পৌঁছনোর আগেই বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ইনসুরেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্রও নেই।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চৌগাছার ইউএনও নার্গিস পারভীন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী যশোর জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবির এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বাসের মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।