ঠাকুরগাঁওয়ের ৪৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

0
48

সময়ের পাতা ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫টিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন ও পাঠদান। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষকরা একদিকে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন না আর অন্যদিকে মানহীন হয়ে পড়েছে এসব বিদ্যালয়ের পড়াশুনা। প্রধানশিক্ষকহীন এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের।

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা বালিয়াডাঙ্গী। সীমান্তের আশপাশের এলাকার অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠালেও বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। অন্যান্য উপজেলার চেয়ে এখানে প্রাথমিক শিক্ষার মান ক্রমেই কমছে।

বালিয়াডাংঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্র জানায়, জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬০টি এবং নতুন ৭১টি। এরমধ্যে ৪৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে । দীর্ঘদিন থেকে এসব প্রধান শিক্ষকের শূণ্য পদগুলোতে সহকারি শিক্ষকরা দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন । অপর দিকে সহকারি শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে । উপজেলায় নুতন ও পুরানো মিলে ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এগুলো বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূণ্য।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শালাডাঙ্গা, সিংহাড়ী, নাগেশ্বরবাড়ী গ্রামের অভিভাবকরা জানান, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান যখন শূন্যপদে থাকে তখন সেখানে অধিকাংশ কাজই ব্যাহত হয়। আমরা চাই শূন্য পদ পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মহাজনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী সুমি আক্তার, শেফালি আক্তার ও মিনতি রাণী জানান, আমাদের স্কুলে গত কয়েক মাস যাবৎ হেড স্যার নেই । তাই স্যাররা ঠিক মত ক্লাস নেন না। সামনের আমাদের পরীক্ষা তবুও পড়াশুনা হচ্ছে না। একই কথা জানালো হরিণমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এর ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র মো. রুবেল ও শামীম হোসেন।

উপজেলার হাড়িপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী অভিভাবক রমজান আলী জানান, এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই প্রায় ৮মাস। এখানে পড়াশুনা হচ্ছে না। সহকারি শিক্ষকরা খেয়ালকুশি মতো আসেন বিদ্যালয়ে। ক্লাসও নেন না সময় মতো। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান এ অভিভাবকরা।

একই কথা জানালেন হরিণমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী সুজন এর পিতা রহিমুল ইসলাম ও উদয়পুরপ:হরিঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তারের পিতা সফিকুল ইসলাম।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আফজাল হোসেন জানান, জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হতো। কিন্তু গত তিন-চার বছর পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগসহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে হয়। এতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগেও সময় লাগছে। তবে শূন্য পদ পূরণে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ সমস্যার বিষয়টি উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।আমাদের সময়.কম