ছেলের খুনিদের বিচার চেয়ে রাস্তায় মা

0
2

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরে মাদরাসা ছাত্র মামুন হাসানের (২২) মাস্টারমাইন্ড খুনি সিরাজ, আনিছুর মেম্বর ও ফারুকের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন গ্রামবাসীসহ স্বজনরা। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপি এলাকার শতশত নারীপুরুষ ও শিশুরা সোহবারমোড়-চাঁচড়া সড়কের জননী ইটভাটার পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। নিহত মামুনের মা ছকিনা বেগম, পিতা মশিয়ার রহমান ও বোন লিমা খাতুন মানববন্ধনে অংশ নেন। ছেলের খুনের বিচারের দাবি সম্বলিত ফেস্টুন হাতে ধরে রাখেন ছকিনা বেগম। তিনি বলেন, আমার ছেলেরে ওরা ডেকে নিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি খুনিদের বিচার চাই। পুত্রশোকে এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। মামুনের পিতা মশিয়ার গাজী বলেন, ওইরাতে আনিছুর মেম্বর উপস্থিত থেকে আমার ছেলেরে মারাইছে। মেম্বর বলেছে, সকাল হলি মামুনরে ইটভাটায় জ্বালিয়ে দেবে। মামুনের চাচা রোস্তম গাজী বলেন, সিরাজ ও আনিছুর মেম্বর আমাদের রক্তদিয়ে গোসল করার হুমকি দিচ্ছে। তারা আমাদের এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছে। আমরা মেম্বর আনিছুর, সিরাজ ও ফারুকের ফাঁসি চাই। গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১ টা থেকে তিনটা পর্যন্ত উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মাঝের পাড়ায় মামুনকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করে ওই এলাকার সিরাজ, আনিছুর মেম্বর, ফারুক, লাভলু, সোহাগ, আলতাফসহ অনেকে। মোবাইল চোর সন্দেহে তাকে প্রায় চার ঘন্টা নির্যাতন করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। মামুনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান। পরে বুধবার সকালে থানা থেকে পুলিশ নিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন মা ছকিনা বেগম। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মামুনের। মামুন হাসান উপজেলার খোজালিপুর গ্রামের মশিয়ার গাজীর ছেলে। তিনি মণিরামপুর আলিয়া মাদরাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নেশার টাকা যোগান দিতে তিনি এলাকায় ছোটখাট চুরির সাথে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনার রাতে তিনি নিজ গ্রামের আয়নালদের বাড়িতে মোবাইল চুরি করতে ঢুকলে লোকজন তাকে ধরে মারপিট করে। তবে মামুনের মায়ের দাবি, তার ছেলের কাছে কোন চোরাই মালামাল দেখাতে পারিনি নির্যাতনকারীরা। মামুনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এদিকে মামুনের বিরুদ্ধে বৈদ্যুতিক সেচপাম্প ও মোবাইল ফোন চুরির ঢালাও অভিযোগ দেওয়া হলেও এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় কখনো কোন মামলা হয়নি। মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, মানববন্ধনের কথা শুনেছি। মামুন হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। আমরা তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। জড়িত বাকিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।