পাহাড়ধসে সেনা সদস্যসহ নিহত ৬২

0
37

প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে সেনাবাহিনীর চারজন সদস্যসহ ৬২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাত ও আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসের ঘটনায় এ প্রাণহানি হয়।

চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম

এর মধ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১৯ জন ও চন্দনাইশে চারজন, রাঙামাটিতে চার সেনা সদস্যসহ ৩৫ জন এবং বান্দরবানে চারজন নিহত হয়েছেন।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

রাঙ্গুনিয়া: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে আজ পাহাড়ধসের ঘটনায় চার পরিবারের ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন দুজন। উপজেলার রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের চার স্থানে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলী টাইক্যা ঘোনা এলাকায় বসতঘর চাপা পড়ে নজরুল ইসলাম (৪০), তাঁর স্ত্রী আসমা আকতার বাচু (৩৫), ছেলে ননাইয়া (১৫) ও মেয়ে সাথী আকতার (৯) মারা যায়। একই ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার মো. ইসমাইল (৪২), তাঁর স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩৭), মেয়ে ইশামনি (৮) ও ইভামনি (৪) পাহাড় ধসে মারা যায়। এ ছাড়া ইসলামপুর ইউনিয়নে মইন্যার টেক এলাকার মো. সুজন (৪২), তাঁর স্ত্রী মুন্নী আকতার (২৪), সুজনের তিন বোন জোৎসনা আকতার (১৮), শাহনুর আকতার (১৬) ও পালুমা আকতার (১৪) মাটিচাপা পড়ে নিহত হন। একই ইউনিয়নের পাহাড়তলী ঘোনা এলাকার হেঞ্জু মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (৪৯), মো. হানিফের ছেলে মো. হোসেন (২২), বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. পারভেজ (১৮), মো. সিদ্দিকের স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৪৫), মফিজুর রহমানের মেয়ে মুনমুন আকতার (১৯) ও ছেলে হিরু মিয়া (১৬) পাহাড় ধসে প্রাণ হারান।

চন্দনাইশ: ইউএনও লুফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পাহাড়ধসে চন্দনাইশের মারিয়া (৩), চৌ জেং (১৩), মেমাও চ্যাং (১৩) ও মোকাও চ্যাং (৫০) নামের চারজন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দুজন।

রাঙামাটি: জেলা প্রশাসক মানজারুল মান্নান জানান, দুই দিনে পাহাড়ধসে সেনা সদস্যসহ ৩৫ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি সদরে ১৯ জন, কাউখালীতে নয়জন, কাপ্তাইয়ে পাঁচজন ও বিলাইছড়িতে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন।
আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক রাশেদুল হাসান প্রথম আলোকে জানান, পাহাড়ধসে সেনাবাহিনীর চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা উদ্ধারকাজে গিয়েছিলেন।

বান্দরবান: দুই দিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসে জেলায় চারজন নিহত, দুজন নিখোঁজ এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বান্দরবান জেলা শহরের কালাঘাটায় এবং শহরতলির লেমুঝিরিপাড়া ও লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় বাসাবাড়িতে পাহাড় ধসে পড়ে। এ সময় লেমুঝিরিপাড়ায় একই পরিবারের ঘুমন্ত তিন শিশু ও কালাঘাটায় একজন কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
লেমুঝিরিপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত স্বপন বড়ুয়ার বাড়িতে পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে। স্বপন বড়ুয়ার বাড়িটি কাদা আকারে নেমে আসা পাহাড়ের মাটির সঙ্গে একেবারে মিশে গিয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। প্রতিবেশী সুমন বড়ুয়া বলেন, গতকাল রাত তিনটার দিকে ভারি বৃষ্টি হলে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি বাড়িতে ঢুকতে থাকে। তখন স্বপন বড়ুয়া ও তাঁর স্ত্রী বাড়ির নালায় পানি সরানোর জন্য বের হয়েছিলেন। তাঁদের তিন শিশু সন্তান ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় বিকট আওয়াজে পাহাড়টি বাড়িতে ঘুমন্ত শিশুদের ওপর পড়ে। প্রতিবেশীরা কাদা সরিয়ে সেতু বড়ুয়া (১০), হৃদয় বড়ুয়া (৭) ও লতা বড়ুয়াকে (৩) উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে মৃত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়। সন্তানদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন স্বপন বড়ুয়া নিজেও।
গতকাল রাত একটার দিকে জেলা শহরের কালাঘাটায় একটি বাসায় পাহাড় ধসে পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় রেভা ত্রিপুরা (২২) নামের একজন কলেজছাত্র মাটিচাপা পড়ে মারা যান।
বান্দরবান সদর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ বেলাল জানিয়েছেন, বান্দরবানে নিহত চারজনের লাশ সৎকারের জন্য আত্মীয়দের কাছে দেওয়া হয়েছে।