কমিউনিটি কিনিকে হাসি মুখে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা, হতাশার ছাপ সিএইচসিপিদের মাঝে!

0
36

মোঃফিরোজ হোসেন,আত্রাইঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কমিউনিটি কিনিকগুলো এখন মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা মা ও শিশুর পাশাপাশি সাধারণ গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে।কমিউনিটি কিনিক গুলোতে ঔষধ সরবরাহ, গ্রামের পুরুষ, মহিলা, গর্ভবতী মা ও শিশু সহ হতদরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ পাচ্ছেন। সিএইচসিপি,এইচএ ও এফডাবলুএ কর্মীরা আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করায় স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে।জানা গেছে, আত্রাই উপজেলায় ২৬ টি কমিউনিটি কিনিক রয়েছে।স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে কমিউনিটি কিনিক গুলো বর্তমান সরকার সচল করেছে।প্রতিটি কিনিকে একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাথে ২দিন স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ) ও ৩দিন মাঠকর্মি এফডাবলুএ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সরকারী ভাবে ২৭ প্রকার ঔষধ সরবরাহ করে আসছে।কর্মরত প্রোভাইডার কর্মীরা সপ্তাহে ৬দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।ফলে উপজেলার পত্যন্ত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখা কমিউনিটি কিনিকই এখন সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হতো চিকিৎসার জন্যে। এতে রোগীদের ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পরিবহন খরচ হতো অন্যদিকে সময় নষ্ট হতো।আবার যে কোন পল্লী চিকিৎসকের কাছে গেলে ঔষধের জন্য টাকা খরচ দিতে হতো।বর্তমান কমিউনিটি কিনিক গুলো সচল থাকায় সেই সকল রোগের ঔষধ বিনামূল্যে রোগীরা পাচ্ছেন। কমিউনিটি কিনিকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে মহিলা, প্রসূতি মা ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি।শিশুদের ঔষুধের যে পরিমান চাহিদা তার তুলনায় সরবরাহ পরিমান কম। ফলে প্রতি দুই মাসের শিশুদের জন্য বরাদ্ধ ঔষধ মাত্র ৩ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যায় বলে প্রোভাইডাররা জানান।উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ইসলামপুর কমিউনিটি কিনিকে দেখা গেছে, কিনিকটিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ নাই, টিউওবয়েল অকেজো ও সংস্কার না করায় টয়লেট ব্যাবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।ভবনে ফাটল ধরেছে। এসব সীমাবদ্ধতার ও সমস্যার মধ্যে প্রোভাইডার ফেরদৌসী পারভীন হাসি মুখে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা ও ঔষধ দিচ্ছেন। প্রোভাইডার ফেরদৌসী পারভীন জানান, এখানে সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে সাধারণত মহিলা, প্রসূতি মা ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৪৫-৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। কিনিকে ২৭ প্রকার ঔষধ সরবরাহ করা হয়। শিশুদের ঔষধ চাহিদার তুলনায় বরাদ্ধ পরিমাণ কম।এ সময় ওই কিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা ইসলামপুর গ্রামের রোগী ইতি বানু ও মৌসুমী বেগম জানান, চিকিৎসার জন্য ৪০/৫০ টাকা পরিবহন খরচ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হতো। কিন্তু বাড়ীর পাশে কমিউনিটি কিনিক হওয়ায় খুব সহজে সেবা পাচ্ছি।ওই কিনিকের সভাপতি ইসাহাক আলী জানান, এলাকার কৃষক ও হতদরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত মানুষ কমিউনিটি কিনিক থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষুধ পাচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কমিউনিটি কিনিকগুলো সচল করা বর্তমান শেখ হাসিনা সরকারের একটি জনবান্ধব ও প্রশংসনীয় কর্মসূচি বলেও তিনি জানান।উপজেলার কমিউনিটি কিনিক, শিকারপুর কমিউনিটি কিনিক, আমরুল কসবা কমিউনিটি কিনিক ও রসুলপুর কমিউনিটি কিনিক ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে কর্মরত সিএইচসিপিরা বেশ আন্তরিকতার সহিত নারী, শিশু রুগীদের স্বাস্থ্য সেবা ও ঔষধ দিচ্ছেন। সিএইচসিপিরা জানান, নিয়মিত বেতন-ভাতাদি না পাওয়া, ইনক্রিমেন্ট না থাকা, চাকুরী রাজস্ব খাতে অর্ন্তভুক্ত না করায় সিএইচসিপি পদে কর্মরতদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।আত্রাই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, উপজেলায় মোট ২৬ টি কমিউনিটি কিনিক থেকে ২০১২-২০১৬ ইং সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট লখাধিক এর অধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। তারমধ্যে পাঁচ বছরের নিচে প্রায় লাধিক শিশু ও প্রায় তেরো হাজার প্রসূতী মা কে সেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রয়োজনে রুগীকে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।আরো জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর রুগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কমিউনিটি কিনিক ব্যবস্থায় মফস্বলে চিকিৎসা সচেতনতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এস এম হাসিবুল ইসলাম বলেন, আত্রাই এর মত প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে কমিউনিটি কিনিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে চলেছে।সিএইচসিপি কর্মীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছে না, নেই ইনক্রিমেন্ট, তাদের চাকুরীও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এসব সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা।