নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হাবিপ্রবি, ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

0
23

নিউজ ডেস্কঃ নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়েছে উত্তরবঙ্গের প্রথম ও একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়   হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস । আজ  ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের হাবিপ্রবির  ১৮ তম ব্যাচের  স্নাতক কোর্সের লেভেল-১ সেমিস্টার-১ এর  ছাত্র-ছাত্রীদের  ওরিয়েন্টেশন বুধবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-১ এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওরিয়েন্টেশন  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ আবদুল মান্নান।

hstu183

 

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত  ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অন্যতম  সদস্য প্রফেসর ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন  হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সফিউল আলম। অনুষ্ঠানে ডীনবৃন্দের পক্ষে বক্তব্য রাখেন পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান, হল সুপার কাউন্সিলের আহবায়ক ও ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্স অনুষদের ডীন প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক, প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. শাহাদৎ হোসেন খান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার পক্ষে ছাত্রলীগ নেতা মো. মমিনুল ইসলাম রাব্বি ও মো. রবিউল ইসলাম রবি, নবাগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আব্দুর রহমান,  সিএসই অনুষদের মোছা. নাজনিন আক্তার এবং বিদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি বিভাগের  শিক্ষার্থী ভারতের আছনা মসির প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক  ড  মো. রাশেদুল ইসলাম।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার স্বাধীনতার জন্য ত্রিশ লক্ষ মানুষের জীবন দিতে হয়েছে; পৃথিবীতে এমন নজির আর দ্বিতীয়টি নেই। বাংলাদেশ নামক এ দেশটির স্বাধীনতার জন্য অসামান্য নেতৃত্ব দিয়েছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার সময় আমাদের যে অবস্থা ছিল বর্তমানে সেই অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। গত চার দশকে আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি আমার ঠিকই ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত হবো। তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু পাঠদান নয় বরং জ্ঞান সৃষ্টি করা এবং এ কাজের জন্য দরকার ভাল মানের গবেষণা। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন প্রযুক্তি এখন এত বেশী এগিয়েছে যে বর্তমান প্রজন্ম আমাদের থেকে অনেক বেশি তথ্য সমৃদ্ধ। তোমরা এ প্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞান আহরন করে দেশ বিদেশে জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে এবং নিজেদেরকে সৃজনশীল কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখবে।

 

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম  নবীন শিক্ষার্থীদের বলেন চরম প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তোমরা চান্স পেয়েছো তাই তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাই । তিনি বলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল  একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ গড়ে তোলা , এ জন্য তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে জ্ঞান বিজ্ঞান ও মুক্ত  চর্চার  প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন  ।বর্তমানে  বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য  কন্যা দেশের   বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মান উন্নয়নে সকল পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। তিনি বলেন সবাই জানেন  জননেত্রী  শেখ হাসিনার সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার ।একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের  শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে, এর মধ্যে আছে ল্যাবরেটরির মান উন্নয়ন, পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ ক্রয়, ট্রেইনিংয়ের  ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পেছনে সরকারের পক্ষ থেকে  কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। তিনি নবীনদের বলেন একদিন তোমাদেরকে এই দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করতে হবে । তিনি আরও বলেন এখানে তোমাদের বাবা মা থাকবেনা,  বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমরা  একটি স্বাধীন পরিবেশ পাবা কিন্তু এই স্বাধীনতা যেন খারাপ কাজে ব্যবহার করা না হয় । এ জন্য তিনি তাদেরকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে বলেন। পরিশেষে তিনি  এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে  আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।