একটি সফল র‍্যাগ -ডে

0
260

মুহিউদ্দিন নুর,দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ একজন শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় হলো চরম ও পরম আকাঙ্ক্ষার জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার প্রথম দিন থেকেই ক্যাম্পাস, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সে নানারকমের স্বপ্ন বুনতে থাকে সে । সারা দিন পইপই করে ঘুরে বেড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, মিছিল-মিটিং করে সময় পার। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় তার কাছে হয়ে ওঠে মমতাময়ী মায়ের মতো আপন। ছুটির দিনগুলোয় বাসায় গেলেও প্রাণের ক্যাম্পাসে তার মন পড়ে

rag2

থাকে। শুধু ভাবতে থাকে কখন যাব প্রিয় আঙিনাতে।ক্যাম্পাসে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি_ এভাবে পার হয় জীবনের সব থেকে সেরা দিনগুলো। কখন যে সময় চলে যায় কেউ টের পায় না। চারটি বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে বিদায়ের ঘণ্টা। শিক্ষাজীবনের সেই মধুময় দিনগুলো বিদায়ী শিক্ষার্থীর পিছু ডাকে। আর মধুময় দিনগুলোর স্মৃতি হৃদয়ের ফ্রেমে বেঁধে রাখতে, স্মরণীয় করে রাখতে আনন্দে, উচ্ছ্বাসে, সস্নোগানে, রঙে-রূপে এক অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়ে র‌্যাগ-ডে পালন করেন শিক্ষার্থীরা।র‍্যাগ-ডে একটি ইংরেজি প্রবাদ। যার বাংলা অর্থ পড়ালেখা শেষের হৈচৈপূর্ণ দিন। ঘটা করে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের এ বিদায়ী অনুষ্ঠান পালন করেন নাচ-গান আর হাসি-তামাশার মাধ্যমে। আর এসবের মাধ্যমেই নিজেদেরকে স্মরণীয় করে রাখল হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা । দুই দিন ধরে তারা মাতিয়ে রাখল হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস।র্যালি , রং উৎসব , ফটোসেশন, কনসার্ট , স্মৃতিচারণ সভা, একসাথে দুপুরের খাবার খাওয়া , খেলাধুলা , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কোন কিছুর ই যেন কমতি নেই।

র্যালিঃ র্যালি শুরু হয় প্রথমদিন সকালে , এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর মোঃ মিজানুর রহমান , আরো উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম , সহকারি প্রক্টর , ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারি পরিচালক ড. মোঃ তারিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা । এ সময় শিক্ষার্থীরা নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

রং উৎসবঃ র্যালির পর শুরু হয় র‍্যাগ-ডে এর আকর্ষণীয় অংশ রং উৎসব । এ সময় শুরু হয় রং মাখানোর প্রতিযোগিতা।২ ঘন্টা ব্যাপী এই রং উৎসব কে কেন্দ্র করে রঙ্গিন হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস ,রং এর আবরণের জন্য কাউকেই যেন চেনার উপায় নেই, এই রং উৎসবের রেশ চলে যায় শহর পযন্ত । জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীরা শহরের ভিতরে র্যালি বা রং উৎসব না করলেও বড়মাঠে তারা এটা পালন করেন । একজন শিক্ষার্থী বলেন আমরা ১২ ব্যাচ পরিবর্

12

তন আনতে চাই , ব্যস্ত শহরের মাঝে এসব করলে অনেকেই বিরক্ত হন তাই আমরা এটা পরিহার করেছি আশা করি পরবর্তী ব্যাচ গুলোও তা করবে ।

ফটোসেশনঃ এটার কথা না বলাই ভালো । ক্যামেরা ও ছবি কোনটার ই সঠিক হিসেব পাওয়া যাবেনা। বিশেষ করে সবার ক্যামেরা যেন মেয়েদের ছবি দিয়ে ভরা। শুরু থেকে শেষ পযন্ত এটা কখনোই থেমে থাকেনি । ভবিষ্যতে এসবেই থাকবে স্মৃতি হয়ে ।

কনসার্টঃ প্রথম দিন সন্ধ্যায় শুরু হয় কন্সার্ট , যা চলে রাত পযন্ত। কন্সার্টের পাশাপাশি ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নাচ ছিল দেখার মতো , তাদের সাথে যোগ দেয় কিছু জুনিয়র। কন্সার্টের পুরো সময় মাতিয়ে রাখেন তারা ।

খাওয়া দাওয়াঃ অনেকদিন পর সব ফ্যাকাল্টির সবাই মিলে অনেক মজা করে খাওয়া দাওয়ার পর্ব শুরু হয় দ্বিতীয় দিন দুপুরে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানঃ দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায়  শুধুমাত্র ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয় এই মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ডা মোঃ ফজলুল হক , আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের সহকারি পরিচালক ড মোঃ তারিকুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা ।  এ সময় অডিটোরিয়ামে দেখা যায় উপচে পড়া ভির। অনুষ্ঠানের ফাকে ফাকে 12 ব্যাচ, 12 ব্যাচ মুহুমুহু স্লোগানে কেপে উঠে পুরো অডিটোরিয়াম। যৎসামান্য অনুশিলন করে , অনেকেই আবার অনুশিলন না করেই স্টেজে উঠেন এদিন , তারপরও তারা দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন নিজেদের সবটুকু উজার করে দিয়ে ।

আতশবাজিঃ  দ্বিতীয় দিনের শেষ আকর্ষন ছিল আতশবাজি , যার আয়োজন করা হয় শেখ রাসেল হল সংলগ্ন মাঠে। আতশবাজির শব্দে কেপে উঠে পুরো ক্যাম্পাস । সবাই মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন এই আতশবাজির ঝলক।

দুই দিন ব্যাপী এসব অনুষ্ঠানকে ঘিড়ে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।