সীতাকুণ্ডে একটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রেখেছে পুলিশ

0
33

সময়ের পাতা,ডেস্ক রিপোর্টঃচট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের চৌধুরী পাড়ার প্রেমতলা এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানার’
সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
ছায়ানীড় নামের ওই বাড়িটি সোয়াত দল ও
পুলিশ ঘিরে রেখেছে। ওই বাড়ির ভেতরে
কতজন জঙ্গি ও বাসিন্দা আছেন তা এখনো জানা যায়নি। ঢাকা থেকে সোয়াতের আরেকটি দল পৌঁছানোর পর সেখানে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে পৌর সদরের আমিরাবাদ এলাকার সাধন কুঠি নামের একটি বাড়ি থেকে শিশুপুত্রসহ ‘জঙ্গি’ দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে গ্রেনেড, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও অস্ত্র উদ্ধার করা করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের পৌর সদরের আমিরাবাদ এলাকার সাধন কুঠি নামের একটি বাড়ির নিচতলা থেকে আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে দুজন ‘জঙ্গি’কে আটক করা হয়। এর মধ্যে পুরুষ ব্যক্তিটি নিজেকে জসিম উদ্দিন নামে পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া
নিয়েছেন।সঙ্গের নারীকে তাঁর স্ত্রী
বলেছেন।স্ত্রীর নাম আর্জিনা। তাঁদের সঙ্গে
দু মাস বয়সী শিশুপুত্র রয়েছে। আর্জিনার
কোমরে বোমা বাঁধা ছিল।বাড়ির মালিকের ভাষ্য, গত ৪ মার্চ জসিম তাঁর
স্ত্রী ও দুই শ্যালক নিয়ে বাড়ি ভাড়া করতে
আসেন। ভাড়া নেওয়ার পর জসিমের দুই শ্যালক চলে যান। ভাড়া দেওয়ার সময় জসিমের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নেওয়া হয়। তবে ভাড়া নেওয়ার পর থেকে বাড়ির দরজা জানালা সব সময় বন্ধ রাখতেন জসিম। এ নিয়ে
সন্দেহ দেখা দিলে তিনি (বাড়ির মালিক) ওই পরিচয়পত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যান।সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, এটা ভুয়া পরিচয়পত্র। পরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে জোর করে তিনি জসিমের বাসায় ঢুকে দেখতে পান,সেখানে প্রচুর তার, সার্কিট। এসব দিয়ে কী করা হয় জানতে চাইলে জসিম উত্তর দেন,
তাঁরা সার্কিট বানানোর কাজ করেন।
বাড়ির মালিকের ভাষ্য, এরপর সেখান থেকে একটি সার্কিট নিয়ে আসেন। পরে তিনি সেটা পরিচিত এক বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে দেখান।মিস্ত্রি জানান, এটা টাইমার। এটা জানার পর আজ সকালে তিনি পুলিশকে খবর দেন।পুলিশ দাবি করেছে, বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাদের বাধা দেন জসিম ও আর্জিনা। একপর্যায়ে পুলিশ জোর করে বাসায় প্রবেশ করলে আর্জিনা তাঁর কোমরে হাত দিতে যান। সেটা দেখে বাড়িওয়ালা ও তাঁর স্ত্রী ওই নারীর দুই হাত শক্ত করে ধরে ফেলেন। পরে পুলিশ জসিম ও আর্জিনার কোমর থেকে বোমা উদ্ধার করে।আমিরাবাদের সাধন কুঠি বাসা থেকে রাত পৌনে আটটায় সীতাকুণ্ড থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলম বলেন,ওই বাড়ি থেকে একটি আত্মঘাতী পোশাক,তিনটি হাত গ্রেনেড, ১২টি বুলেট, একটি পিস্তল, এক হাজার ইলেকট্রনিক্স সার্কিট ও বিপুল পরিমাণ ইসলামি বই উদ্ধার করা হয়েছে।পরে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের
সদস্যরা আত্মঘাতী পোশাক ও তিনটি হাত
গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করে।এর আগে সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার রেজাউর রহমান সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে বাড়িওয়ালাদের সচেতন করা হচ্ছিল।বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটেদের সম্পর্কে তথ্য জানার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। আজ বেলা আড়াইটার দিকে এই বাড়ির মালিক ভাড়াটেকে জঙ্গি সন্দেহে পুলিশকে খবর দেওয়া মাত্র পুলিশ এসে বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলে।জঙ্গি দম্পতির বাসা থেকে প্রচুর পরিমাণে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পৌর সদরের
প্রেমতলায় আরেকটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে তারা। বাড়িটি ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।রাত সাড়ে নয়টার দিকে পৌর সদরের চৌধুরী পাড়ার প্রেমতলা এলাকায় ঘটনাস্থলে থাকা চট্টগ্রাম জেলা পুলিস সুপার নুরে আলম মিনা সাংবাদিকদের বলেন, আমিরাবাদ এলাকার
বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে
পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের আরেকটি
দল এক কিলোমিটার দূরে চৌধুরী পাড়ার
ছায়ানীর নামক বাড়িতে অভিযান চালাতে
আসে। এ সময় ভেতরে থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়া হয়। পরে নগর থেকে সোয়াত টিম ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেছে। ঢাকা থেকে
আরও সোয়াত টিম আসছে। ভেতরে কতজন জঙ্গি এবং বাসিন্দা আছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে জঙ্গিরা ভেতরে কাউকে জিম্মি করেননি। অভিযান চালিয়ে ভেতরে থাকা জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হবে। ভেতরে থাকা জঙ্গিরা নব্য জেএমবির সদস্য বলে ধারণা করছেন তিনি।