শাহবাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ (ভিডিও)

0
57

সৌরভ ঘোষ/শরিফুল ইসলামঃ রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী সব চুক্তি বাতিল ও ৭ দফা দাবিতে তেল-গ্যাস ও বন্দর-বিদ্যুৎ রক্ষা জাতীয় কমিটির ডাকা হরতাল চলাকালে শাহবাগে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

২য় দফায় ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী লাকি আক্তার, উম্মে হাবিবা, নাসির উদ্দিন প্রিন্স, কাকন, বেনজিরসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এর আগে সকালে রাজধানীল শাহবাগে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এসময় তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে বাঁধা দেয় পুলিশ। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। তাদের নিভৃত করতে টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সকাল ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত এই এক ঘন্টায় তিন দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। পিকেটাররা শাহবাগ মোড়ে আসার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। পরবর্তি সময় সকাল ৭ টার পরপরই পিকেটারদের সাথে পুলিশের প্রথম সংঘর্ষ হয়। পিকেটাররা ইট-পাটকেল নিক্ষপ করে। অন্যদিক থেকে পিকেটারদের লক্ষ্য করে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপরেই পিকেটাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

টিএসসির কাছে পিকেটাররা অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছ।

হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়েছে রাজধানীর পল্টন ও আশপাশের এলাকাতেও।

বুধবার তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক বিবৃতিতে এ হরতাল ও বিক্ষোভের ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে আনু মুহাম্মদ বলেন, রামপাল কয়লা প্রকল্প বাতিলসহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যা সমাধানের জন্য ৭ দফা বাস্তবায়নে লংমার্চ, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, মহাসমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও সরকার সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে হরতাল পালনের কর্মসূচি দিয়েছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের হরতাল ক্ষমতার সংকীর্ণ সংঘাতে সম্পদ ধ্বংসের নয় বরং সম্পদ রক্ষা-সম্পদ সৃষ্টি ও বাংলাদেশ রক্ষার। এ হরতাল জ্বালাও-পোড়াও নয়, মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের। বিবৃতিতে ঢাকা মহানগরীর সব প্রতিষ্ঠান, যান্ত্রিক পরিবহন ও ব্যক্তিগত কাজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করে সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনে শরীক হতে রাজধানীবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তবে পথচারী, সাইকেল-রিকশা-ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যমসহ বিদ্যুৎ-ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি, কাঁচা বাজার, ওষুধের দোকান হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে হরতালে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। দল দুটি পৃথক বিবৃতিতে হরতালের সমর্থন জানায়।