প্রবাসী শ্রমিকের মে দিবস ____হাবিবুর রহমান মিছবাহ

0
56

সময়ের পাতা ডেস্কঃ দেশের সকল হোটেল-রেস্তোঁরা, মিল-ফ্যাক্টরী, কল-কারখানা ইত্যাদি বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ‘মে’ দিবস পালন করছে আজ। কোথাও কোথাও বিশাল আকারের শ্রমিক সমাবেশও হচ্ছে অধিকারের দাবী নিয়ে। বক্তারা গলা ফাটিয়ে চমৎকার ভঙ্গিমায় বক্তব্য দিচ্ছেন সমাবেশগুলোতে। ক্ষণে ক্ষণে শ্রোতারাও ঠিক, ‘শ্রমিকের অধিকার দিতে হবে দিয়ে দাও’, পুঁজিবাদদের কালো হাত- ভেঙ্গে দাও গুড়্য়ে দাও’! টাইপের শ্লোগানে কাঁপিয়ে তুলছে চারপাশ।
শ্রমিকদের জন্য এটি একটি অন্যতম আনন্দের দিনও বলতে পারেন। কেননা, এই দিনে তাদের অব্যক্ত কথাগুলো নেতাদের মুখ থেকে বারুদের ন্যায় বিচ্ছুরণ ঘটায়। মনে হয় এই বুঝি শ্রমিকের সব পাওনা বুঝে পাবে। বৈষম্যের দিন এই বুঝি শেষ। কিন্তু তারা জানে না যে, বক্তার মঞ্চ কাঁপানো বক্তব্য শুধুই একটি ফরমালিটি। বরং পুঁজিবাদরাই এসব সভা-সমাবেশের আয়োজনে সহায়তা করে এবং শ্রমিকদের দরদী সেজে গরম বক্তব্য দিয়ে সরলমনা শ্রমিকদের ব্যবহার করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।
যাহোক, দেশের শ্রমিকরা অধিকার পাক বা না পাক, অন্তত একটি দিন তো অধিকার আদায়ে রাজপথে দাঁড়াবার সুযোগ পায়। অব্যহতি নিতে পারে সব ধরণের কাজ হতে। কিন্তু প্রবাসী শ্রমিক? আন্তর্জাতিক দিবস হওয়া সত্বেও তাদের আর দশদিনের মতো আজও খেটে যেতে হচ্ছে গাধা খাটুনি। তারা তাদের কামনা-বাসনার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে না কোথাও। অব্যক্ত যন্ত্রণাগুলো কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে তাদের জীবন। দিন-রাতের বেশীরভাগ সময় যারা দেশ-জাতির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বিদেশের মাটিতে, সেই তাদের জন্য কোনো সমবেদনা জানাতে শুনিনি এ দেশের শ্রমিক সমাবেশগুলো থেকে।
ভিনদেশী মালিকের কটুবাক্য আর নির্যাতন সহ্য করতে হয়নি এমন প্রবাসী কমই পাবেন। দালাল চক্রের প্রতারণা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাতসমূদ্র-তের নদী পাড়ি জমানো, ভিটা-বাড়ী বন্ধক রেখে পরম আপনজনদের ছেড়ে যারা দূর বিদেশে পড়ে আছেন বছরের পর বছর, সেই তারাই আজ আমাদের স্মৃতির বাইরে। অথচ, দেশের অর্থনীতির বিশাল একটি অংশজুড়ে রয়েছে প্রবাসীদের অবদান।
প্রবাসী ভাইদের প্রতি রইলো বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও সমবেদনা।

সময়েরপাতা/খালেদ/ফিরোজ