প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দেশবাসী হতাশ : মির্জা ফখরুল

0
13

সময়েরপাতা ডেক্সঃ  চলমান সঙ্কট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো আভাস না থাকায় বিএনপির পাশাপাশি দেশবাসী হতাশ হয়েছেন।মির্জা ফকরুল

সরকারের তিন বছরপূর্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের পর গত রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তাৎণিক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটা একেবারেই গতানুগতিক, আত্মতুষ্টি ও আত্মস্তুতিতে ভরা। সবার আশা ছিল, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ল্েয একটি রাজনৈতিক সমঝোতার আভাস দেবেন। তার ভাষণে তা না থাকায় এই বক্তব্য সময়ের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমি বলতে চাই, দেশবাসী এই ভাষণে সম্পূর্ণ হতাশ হয়েছেন, আমরাও হতাশ হয়েছি।

গণতন্ত্র ও সমঝোতার পে দলের অবস্থান আবারো ব্যক্ত করেন ফখরুল।
সরকারের তিন বছরপূর্তি উপলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ভাষণের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ রাষ্ট্রপতির সংলাপের উদ্যোগ ও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়াবলি ওঠে আসে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। তাদের বর্জন ও প্রতিহতের হুমকির মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয় নিয়ে ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ।
তাৎণিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের বৈধতা ও নৈতিকতার সঙ্কট দেশের প্রধান সমস্যা। অথচ প্রধান সেই রাজনৈতিক সঙ্কট তিনি এড়িয়ে গেছেন।
দেশের উন্নয়নের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার একটি ধারাবাহিকতা। বৈধ কিংবা অবৈধ সব সরকারকেই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য কিছু কাজ করতে হয়। কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে হয়। জাতীয় উন্নয়নের চিত্র হিসেবে সে সবের ফিরিস্তি দিলে মানুষ হতাশ হয় বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, উন্নয়নের যে ফিরিস্তি প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দিয়েছেন, তার অনেক কিছুই ভুল, অসত্য, ভিত্তিহীন এবং এতে রয়েছেন এন্তার শুভঙ্করের ফাঁক। দেশের মানুষ তাদের দেনিন্দিন অভিজ্ঞতায় ভালো করে বুঝেন দেশ উন্নয়ন না কি অবণতির পথে এগোচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একতরফা দোষারোপের মাধ্যমে তার ভাষণে প্রচ্ছন্নভাবে অগণতান্ত্রিক ও একদলীয় মানসিকতাই ফুটে ওঠেছে। হামলা-মামলা, জেল-জুলুমে বিপর্যস্ত বিরোধী দলগুলো সব গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ডেমোক্র্যাটিক স্পেস প্রতিদিন সঙ্কুচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্নীতি, লুণ্ঠন অবাধে চলছে। ব্যাংকগুলো ও শেয়ারবাজার লুট হয়ে গেছে। জনজীবনে নিরাপত্তা নেই, সুবিচার ও আইনের শাসন নেই, শিার মান নেমে গেছে। আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। শিশুদের পুস্তক ভুলে ভরা। গুম, খুন, অপহরণ, শিশু হত্যা, নারী ধর্ষণ নিত্যকার ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী সব কিছু সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

রাষ্ট্রীয় শাসক দলীয় সন্ত্রাসে দেশে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, বিরোধী দলের কর্মসূচিতেও তারা (মতাসীন) একের পর এক হামলা ও অন্তর্ঘাতের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী এ জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে দুই-এক দিনের মধ্যে দলের প্রতিক্রিয়া জানাবে।
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, চেয়ারপারসনে প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার ও প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।