পাঠ্যবই সংশোধনে হেফাজতের দাবি মেনে নিল সরকার

0
27

সময়ের পাতা ডেস্ক: পাঠ্যবই সংশোধনে হেফাজতে ইসলাম সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি জানানোর পর সরকার তা মেনে নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে হেফাজত। হেফাজতের নেতারা বলছেন, তাদের দাবি অনুযায়ী ১৭টি লেখা যুক্ত হয়েছে পাঠ্য বইয়ে। তবে এই দাবি নাকচ করে এনসিটিবি বলছে সংস্কারের অংশ হিসাবে তাদের কিছু লেখা বাদ পড়েছে।

২০১৬ সালে বছর জুড়েই পাঠ্যবই সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল হেফাজতে ইসলাম। দাবি ছিল তাদের বিবেচনায় পাঠ্যবই থেকে ইসলাম বিরোধী ও হিন্দু লেখকদের লেখা বাদ দিতে হবে। সে সব দাবি ও নতুন বইয়ের বাদ পড়া লেখা মিলিয়ে দেখা গেছে, হেফজতের দাবি পূরণ হয়েছে। এসব সংশোধনের মধ্যে রয়েছে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে লেখা, তৃতীয় শ্রেণিতে খলিফা আবুবকর (রা.), চতুর্থ শ্রেণিতে খলিফা ওমর (রা), পঞ্চম শ্রেণিতে বিদায় হজ ও শহিদ তিতুমীরকে নিয়ে লেখা অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। বাদ পড়েছে হুমায়ূন আজাদের ‘বই’ কবিতা। যা ছিল হেফাজতের অন্যতম দাবি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে বাদ পড়েছে ভারতের রাঁচি ভ্রমণ। এর পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে মুসলিম দেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত লেখা। সত্যেন সেনের ‘লাল গরুটা’ লেখার পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে ‘সততার পুরস্কার’। ৭ম শ্রেণিতে ‘শরতের লালু’ বাদ দিয়ে এসেছে ‘মরুভাস্কর’। ৮ম শ্রেণিতে বাদ গেছে রামায়ণ, ৯ম শ্রেণিতে বাদ পড়েছে ‘বৈষ্ণব পদাবলি’। মঙ্গল কাব্যের সাথে মিল থাকা দুই কবিতা। এসবকেই হেফাজত নিজেদের দাবি পূরণ বলছে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, ২০১৭ সালের যে সিলেবাস এই সিলেবাসের মধ্যে প্রায় ১৭টির মত সংশোধন আনা হয়েছে। পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে । সেটা অত্যন্ত সন্তোষজনক।

পাঠ্যবই এর এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া জানিয়ে, কারিকুলাম এনসিটিবি সদস্য প্রফেসর মশিউজ্জামান বলেন, সাহিত্যকে আমি সাহিত্য হিসাবে না দেখ ধর্মীয় বিষয় হিসেবে দেখলে তো করার কিছু নেই। বিষয়টা হচ্ছে পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জন, পরিশোধন, পরিবর্তন। এগুলো ধারাবাহিক পক্রিয়া।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, এ সময় কেনো এই সংস্কারটা করা হলো। এখনতো দেখা যাচ্ছে হেফাজত যে দাবিগুলো করেছিল সেগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। এটাতো খুবই দু:খজনক এবং এটা খুবই আতঙ্কজনক ব্যাপার। যে শিক্ষাকে আমরা সংকুচিত করে ফেলেছি এর সাথে ধর্মের কি সম্পর্ক সেটাও তারা বলবে না। কিন্তু তারা তাদের মনগড়া ব্যাখ্যাটা আরোপ করছে।

বিশ্ব জুড়ে ধর্মীয় হানাহানির এই যুগে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাক্রম তৈরি করা না গেলে জাতিকে মূল্য দিতে হবে। -একাত্তর টেলিভিশন