নতুন বইয়ে পুরাতন ভূল

0
72

সময়েরপাতাঃ প্রতি বছরই জানুয়ারির শুরুতেই বিনামূল্যে বই পাচ্ছেন সারা দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা।এবার দেশের ৪ কোটি ৩৩ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিয়েছে সরকার।সরকারের এই মহতি উদ্যোগ দেশজুড়ে প্রশংসাও কুড়িয়েছে।নতুন
বই মানেই শিক্ষার্থীদের অনাবিল আনন্দের,তা হোক বিনামূল্যের কিংবা কেনা।এই বই বিতরণ শুধু শিক্ষার্থীদের আনন্দের যোগান দিচ্ছে না।প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই বই বিতরণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহী করে তুলছে।পাশাপাশি অভিভাবকরা বই কেনার অর্থ ও ঝামেলার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন।এ জন্য সরকার এবং পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে অভিনন্দন।তবে বইয়ে তথ্যগত ত্রুটি, বানানে ভুল এবং পাঠ্যসূচির সংযোজন ও বিয়োজন নিয়ে উদ্বেগের কোনো সুরাহা হচ্ছে না।গত কয়েক বছরের বইতে বানানে অনেক ভুল পাওয়া গেছে।রয়েছে তথ্যের মারাত্মক হেরফের।আর পাঠ্যসূচির অন্তর্গত ইসলাম ধর্মের অনেক কবিতা, প্রবন্ধ বাদ দিয়ে স্থান পেয়েছে হিন্দুয়ানী সব রীতিনীতির কলাকৌশল সম্বোলিত গল্প-কবিতা।হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় ভাষণ,ওমর ফারুকের
জীবনী বাদ দেয়া হয়েছে।যোগ হয়েছে পাঠা বলির নিয়ম,লালু নামের গল্পে গরুকে মায়ের সাথে তুলনীয় দেখানো হয়েছে।হাজারও লেখালেখির
পরেও এর কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।ভাবখানা এমন_ ভিক্ষের চাল কাড়া আর আকাড়া।যদি এমনটাই হয় যে বিনামূল্যের বই, যা
আছে তাতেই লাভ।আপত্তি এখানেই। বই হওয়া চাই নির্ভুল এবং মূল্যবোধ সমৃদ্ধ।আরও যেদিকটি লক্ষণীয় তা হলো বাচ্চাদের ওপরে বইয়ের বোঝা
পাচানোর প্রবণতা।যে শিশুরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়েছে ৬টি বই।ষষ্ঠ শ্রেণিতে তাদেরকে ১৪টি বই পড়তে হবে।পাঠ্যপুস্তক বোর্ডই তা দিচ্ছে।এই বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের মেধা বিকাশে সহায়ক না কি অন্তরায় তা জ্ঞানীজনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।আগামী প্রজন্মকে সঠিক এবং যথাযথ জ্ঞান দানে বই গ্রন্থনায় সতর্ক হওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ।পুনশ্চঃ ভুলে ভরা বই জাতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ করে যে প্রশংসা কুড়িয়েছে, পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অবহেলা আর উদাসীনতায় তা ভেস্তে যেতে পারে।