গাড়ি সঙ্কটে স্কুল-কলেজগামীরা চরম দুর্ভোগে!

0
32

সময়ের পাতা ডট কম.মিরপুর ১০(ঢাকা): বিআরটিএ’র সিটিং সার্ভিস বন্ধ ঘোষণার পর সরকারকে পাল্টা শিক্ষা দিতে রাস্তায় গাড়ি নামাচ্ছে না মালিক পক্ষ। সে শিক্ষা সরাসরি আঘাত হানছে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই।স্কুল-কলেজগুলোতে ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষার সময় এখন। তখনই রাস্তায় নেমে বাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে অনেক শিক্ষার্থী।বুধবার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সড়কে সড়কে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি।পর্যাপ্ত বাস না থাকায় কোনওটিতে ঝুলে কোনওটিতে ঠাসাঠাসি হয়ে স্কুল-কিংবা কলেজে যাচ্ছে কোমলমতিরা। আর কেউ কেউ দূরের পথ যেতে নিচ্ছে রিক্সা। অনেকেই বলেছে, তাদের পরীক্ষা চলছে, এই সময়ে রিক্সায় করে যথাসময়ে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে পারবে কিনা তাও জানা নেই।
বুধবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে চোখে পড়ে বাসের এই তীব্র সঙ্কট।কেউ কেউ ঘন্টাধিক কাল দাঁড়িয়ে থাকার পর রিক্সায়, কেউবা যে ক’টি বাস আসছে তাদে বাদুর ঝোলা হয়ে রওয়ানা দিচ্ছে।ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ, আশিক ও তারিন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলো গোল চত্বরে। কথা হয় বাংলানিউজের সঙ্গে। ওরা বললো, গত ক’দিন ধরেই কলেজের সময় বাস পাচ্ছে না তারা। বুধবারও প্রায় আধা ঘন্টার উপর দাঁড়িয়ে আছে কোনো বাসের দেখা নেই।
সকাল তখন সাড়ে ৭টা। তাদের ক্লাস শুরু হয় ৮ টায় আর স্কুল গেইট বন্ধ হয় সকাল ৭.৫৫ মিনিটে। ফলে তিন বন্ধু একটি রিক্সায় চড়ে রওয়ানা দিলো। তাদের আশঙ্কা আজ আর কলেজে ঢুকতে পারবে না।
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী আঁখি। মায়ের সাথে স্কুলে যাচ্ছিলো সে।
তার মা ফিরোজা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিদিন বাচ্চাকে নিয়ে স্কলে যেতে হয়। বাসের সংকট থাকায়’ সকালে বের হলেও নির্দিষ্ট সময় পৌছানো কষ্টসাধ্য ব্যাপর হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যরা কয়েকজন জানালেন, বাচ্চাদের স্কুলে স্কুলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। যথা সময়ে পৌঁছাতে না পারলে তারা কিভাবেই পরীক্ষা দেবে।
বিআরটিএ ঘোষণা অনুযায়ী গত ১৬ এপ্রিল থেকে সিটিংসার্ভিস বন্ধ করা হয়।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মালিকপক্ষের অনেকেই এখন রুট গুলোতে বাস নামাচ্ছেন না। এতে কৃত্রিম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। যাতে ভোগান্তিতে যাত্রীরা।
আর মালিক পক্ষের এই কারসাজিতে আবার হয়তো ফিরে আসছে সিটিং নামের চিটিং সার্ভিস।