কাল থেকে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

0
13

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম তাবলিগ জামাতের ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার(১৩ জানুয়ারি)।এ উপলক্ষে গতকাল থেকেই তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। দুই পর্বের এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দেশের ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। প্রথম পর্বে ১৬ জেলায় ও দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন।এ উপলক্ষে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন মুসল্লিদের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এছাড়াও মুসল্লিদের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজারেরও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয়।ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বাদ ফজর থেকে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। শীত উপেক্ষা করে গতকাল থেকেই লাখ লাখ মুসল্লি তাদের খিত্তায় অবস্থান করেছেন। এছাড়াও অনেক বিদেশি মুসল্লি তাদের কামরায় অবস্থান নিয়েছেন। আখেরি মোনাজাতের দিন ৩০ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন ইজতেমা আয়োজক কমিটি|এবারের বিশ্ব ইজতেমায় যেসব জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবেন : প্রথমপর্বে ১৬ জেলার মধ্যে ঢাকা জেলার (খিত্তা নং-১, ২, ৩, ৪, ৫), টাঙ্গাইল (খিত্তা নং-৬, ৭, ৮), ময়মনসিংহ (খিত্তা নং-৯, ১০, ১১), মৌলভীবাজার (খিত্তা নং-১২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (খিত্তা নং-১৩), মানিকগঞ্জ (খিত্তা নং-১৪), জয়পুরহাট
(খিত্তা নং-১৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (খিত্তা নং-১৬), রংপুর (খিত্তা নং-১৭), গাজীপুর (খিত্তা নং-১৮, ১৯), রাঙামাটি (খিত্তা নং-২০), খাগড়াছড়ি (খিত্তা নং-২১), বান্দরবান (খিত্তা নং-২২), গোপালগঞ্জ (খিত্তা নং-২৩), শরীয়তপুর (খিত্তা নং-২৪), সাতক্ষীরা (খিত্তা নং-২৫), যশোর (খিত্তা নং-২৬, ২৭) এবং দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা জেলার (খিত্তা নং-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৭), মেহেরপুর (খিত্তা নং-৬), লালমনিরহাট (খিত্তা নং-৮), রাজবাড়ী (খিত্তা নং-৯), দিনাজপুর (খিত্তা নং-১০), হবিগঞ্জ (খিত্তা নং-১১), মুন্সীগঞ্জ (খিত্তা নং-১২, ১৩), কিশোরগঞ্জ (খিত্তা নং-১৪, ১৫), কক্সবাজার (খিত্তা নং-১৬), নোয়াখালী (খিত্তা নং-১৭, ১৮), বাগেরহাট (খিত্তা নং-১৯), চাঁদপুর (খিত্তা নং-২০), পাবনা (খিত্তা নং-২১, ২২), নওগাঁ (খিত্তা নং-২৩), কুষ্টিয়া (খিত্তা নং-২৪), বরগুনা (খিত্তা নং-২৫) ও বরিশালের (খিত্তা নং-২৬) মুসল্লিরা অংশ নেবেন। তবে ঢাকা জেলার মুসল্লিরা ইজতেমার দুই পর্বেই অংশ নেবেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়দানের উত্তর দিক থেকে ক্রমানুসারে দক্ষিণ দিকে খিত্তার নম্বর বসানো হয়েছে।
আগামী ১৫ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। মাঝে ৪ দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।
উল্লেখ্য, দিন দিন বিশ্ব ইজতেমায় শরিক হওয়া মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্থান সংকুলান না হওয়ায় গত বছর থেকে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের শূরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।গত বছর যে ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেছেন এ বছর তারা ইজতেমায় অংশ নেবেন না। অবশ্য যেসব জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন না তারা নিজ নিজ জেলায় ইজতেমার আয়োজন করেছেন।গতকাল ইজতেমা ময়দানে সরেজমিনে দেখা গেছে, তুরাগ তীরে ১৬৫ একর বিশাল ময়দানজুড়ে চটের শামিয়ানা তৈরির কাজ সমাপ্ত হয়েছে।জামাতে আসা মুসল্লিরা ছাড়াও টঙ্গীর আশপাশ এলাকার স্কুল-কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার এবং সব বয়সী ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ইজতেমা ময়দানের অসমাপ্ত কিছু আংশিক কাজ করছেন।
ইজতেমা ময়দানে দেখা হয় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মতির সঙ্গে। তিনি বলেন, এবারের ইজতেমা সফল করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা মুসল্লিদের জন্য কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ইজতেমার প্রস্তুতির সব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি দলীয় কর্মী ও কমিউনিটি পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান মতিউর রহমান মতি।
বিশ্ব ইজতেমার তদারকি কমিটির সদস্য ৫৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ গিয়াস উদ্দিন সরকার বলেন, মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো ময়দানে শব্দ প্রতিরোধক ৩০০ বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদের ওপর ৯টি ভাসমান সেতু ইতোমধ্যে নির্মাণ করেছেন। ঢাকা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসন নতুন রাস্তা নির্মাণসহ ময়দানের প্রবেশের পুরনো রাস্তাগুলো মেরামত, সংস্কার, সুপেয় পানিসহ ওজু, গোসলের প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ, টয়লেট ইত্যাদি সব কাজ সম্পন্ন করেছেন।র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় ৫ স্তর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ৯টি ওয়াচ টাওয়ারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে ও আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দারা নজরদারি রাখছেন। আকাশপথে টহলে থাকবে র্যাবের হেলিকপ্টার। নদীপথে থাকবে বোট প্যাট্রোল। এছাড়াও যে কোনো নাশকতা প্রতিরোধে র্যাবের স্পেশাল কুইক স্টপ টিম সাদা পোশাকে কাজ করবে।গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, ইজতেমায় মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ১০ হাজারেরও বেশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করবেন।ইজতেমায় ট্রেন ও বাস সার্ভিস : রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এবারের বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের সুষ্ঠু যাতায়াতের জন্য ২৪টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল বাদ জুমা ঢাকা-টঙ্গী, টঙ্গী-ঢাকা এবং ১৪ জানুয়ারি লাকসাম-টঙ্গী বিশেষ ট্রেন চলবে। আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতের দিন ভোর ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আপ মোনাজাত বিশেষ ৪ জোড়া এবং টঙ্গী-ময়মনসিংহ বিশেষ ২ জোড়া, ঢাকা-টঙ্গী ৪ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু করে আগামী সোমবার পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখী সব ট্রেন ২ মিনিট পর্যন্ত টঙ্গী স্টেশনে দাঁড়াবে। সাপ্তাহিক বন্ধের সব ট্রেনও ওই সময়ে চলাচল করবে। তবে এ লাইনে ১৫ জানুয়ারি ডেমু ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়াও ইজতেমা সার্ভিসে বিআরটিসির বিভিন্ন ডিপোর বেশকিছু বাস নিয়োজিত থাকবে। যেগুলোতে শুধু মুসল্লিরা যাতায়াত করতে পারবে। বাসগুলোর সামনে বিশেষ স্টিকার লাগানো থাকবে। সুষ্ঠুভাবে বাস সার্ভিস চলাচল নিশ্চিত করার জন্য করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।