ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে সিম বিক্রি আটক ৬১

0
31

সময়ের পাতাঃ ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে মোবাইল ফোনের সিমকার্ড বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে  র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৪ (র‍্যাব) ৬১ জনকে আটক করেছে । র‍্যাবের জানায়, আটক ব্যক্তিরা প্রতারক চক্রের সদস্য।

বৃহস্পতিবার মিরপুর পাইকপাড়ায় র‍্যাব ৪-এর ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র‍্যাব ৪-এর উপ-অধিনায়ক মেজর খুরশীদ আলম।ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে সিম বিক্রি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেসরকারি একটি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের মিরপুর অঞ্চলের অপারেটর ও ডিস্ট্রিবিউটর আছেন।

মেজর খুরশীদ আলম জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি সিম নিবন্ধনের পর ধারণা করা হয়েছিল বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপরাধ কমে আসবে। এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে র‍্যাবের কাছে হুমকি, চাঁদাবাজির অনেক অভিযোগ এসেছে। তিনি বলেন, ‘যেসব ফোন নম্বর থেকে তা করা হয়, তার রেকর্ড বিশ্লেষণ  ও কলারের লোকেশন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। বাস্তবে ওই ব্যক্তির বা ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে র‍্যাব ৪ গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।’

মেজর খুরশীদ আলম জানান, একপর্যায়ে র‍্যাব জানতে পারে সিম ডিস্ট্রিবিউটর ও তাদের নিয়োগ করা বিক্রয় প্রতিনিধিদের একটি অংশ এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত র‍্যাব ৪-এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পল্লবী থানাধীন ইয়ানতাই চায়নিজ রেস্টুরেন্ট ভবনের সপ্তম তলায় এম আর কমিউনিকেশনের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় দেখা যায়, অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ওই কার্যালয়ের কর্মচারীদের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কাজ করছেন। এ ব্যাপারে তাদের প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো উত্তর দিতে পারেনি। পরে র‍্যাব তাদের আটক করে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় আটক ব্যক্তিরা জানান, ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে সিম নিয়ে তারা বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রিটেইলারের কাছে বিক্রির জন্য দেন।

এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক বিক্রয় প্রতিনিধির জন্য মাসিক একটি লক্ষ্যমাত্রা থাকে। রিটেইলর যখন সিম বিক্রি করে তখন কেবল আঙুলের ছাপ, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জন্মতারিখ নিয়েই তা সচল করে। ফলে গ্রাহকের ফরমটি পূরণ না করেই চালু করে দেওয়া হয় সিম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের কাছে ১৩৬টি পুরোনো মোবাইল, ২৩টি নতুন মোবাইল, ছয়টি ল্যাপটপ, তিনটি সিপিইউ, মনিটর পাঁচটিসহ নগদ এক লাখ ৫৭ হাজার ৯২৩ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন মেজর খুরশীদ আলম। সূত্রঃ এনটিভি।