প্রথম কোন যুদ্ধাপরাধীর জামিন দিল আদালত

0
4

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নোয়াখালীর সুধারামের আবদুল কুদ্দুসকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

এ আদেশের মধ্য দিয়েই প্রথম সাজাপ্রাপ্ত কোনো যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামিন পেলেন আবদুল কুদ্দুস। তবে বিচার চলাকালীন অসুস্থতার কারণে দুই আসামি জামিন পেয়েছিলেন।

একই সঙ্গে জামিনের মেয়াদ ছয় মাস পূর্ণ হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একটি বোর্ড বসিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যগত তথ্য দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ আবদুল কুদ্দুসের ক্যানসার রয়েছে সংক্রান্ত বিষয়ে মেডিকেল প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে এই আদেশ দেন।

আসামি আবদুল কুদ্দুসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও মাসুদ রানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘পিজি হাসপাতালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবদুল কুদ্দুস ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত। আমি বলেছি, ফুসফুস আক্রান্ত রোগী দীর্ঘদিন বাঁচতে নাও পারে। সে যাতে পরিবারের সঙ্গে থেকে সেবাশুশ্রূষা পায়, সে জন্য জামিন প্রয়োজন। আদালত মেডিকেল প্রতিবেদন এবং আইনজীবীর যুক্তি আমলে নিয়ে জামিন দেন।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সর্বোচ্চ আদালত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ড নিয়ে এটাই প্রথম জামিনের আদেশ। এর আগে আর কোনো অপরাধী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জামিন পাননি। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে বিচার শুরুর আগে অসুস্থতা বিবেচনায় আবদুল আলিম ও কায়সার কামালকে জামিন দিয়েছিল বলে আদালতে জানান আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আবদুল কুদ্দুসের ক্যানসার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় এই রিপোর্ট বিবেচনা করে সর্বোচ্চ আদালত এই জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন।’

গত ২৯ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত ক্যানসারে আক্রান্ত নোয়াখালীর সুধারামের আবদুল কুদ্দুসকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ওই হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকদের আবদুল কুদ্দুসের অসুস্থতা নিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এর পর ক্যানসার রয়েছে বিষয়টি আমলে নিয়ে জামিন আদেশ দিলেন আদালত।

আসামির জামিন আবেদনের বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওনার (আসামি) বয়স ৮৭ বছর। চার ধরনের ক্যানসার, হুইল চেয়ার ও অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে-ফিরতে পারে না। মানবিক কারণে জামিন চাওয়া হয়েছিল।

গত ১৩ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আবদুল কুদ্দুসকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের মধ্যে আমির আলী, মো. জয়নাল আবদিন ও আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুরের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এবং আসামি মো. আবদুল কুদ্দুসের ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়।