গুলিস্তানের ফুটপাতে বুলডোজার তৃতীয় দিনেও

0
39

রাজধানীর গুলিস্তানে তৃতীয় দিনেও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে সিটি করপোরেশন। একই সময় পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশ করেছে হকার সংগঠনগুলো। দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযানে মওলানা ভাসানি হকি স্টেডিয়ামের উল্টো দিক থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়ে বায়তুল মোকাররমের দিকে হকারগুলো তখন তারা উচ্ছেদ করে। বুলডোজারে হকার মার্কেট ভেঙে ধ্বংসস্তূপ তারা নিজেরাই সরিয়ে নেন। অভিযানের শেষ পর্যন্ত ফুটপাতের প্রায় শতাধিক অবৈধ দোকান ভেঙে ফেলা হয়।তৃতীতৃতীয় দিনেও গুলিস্তানের ফুটপাতে বুলডোজার

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মোহাম্মদ নাজমুস শোয়েব সাংবাদিকদের জানান, তারা গুলিস্তান থেকে মতিঝিল পর্যন্ত হকারমুক্ত করবে। তবে দিন শেষে দেখাযায়, অভিযানে উচ্ছেদকৃত ধ্বংসাবশেষ থেকে আবার জেগে উঠে হকাররা। উপস্থিত হয় হাক-ডাক ও ক্রেতা আর্কষণের নানা কথামালা নিয়ে। পসরা সাজিয়ে তারা স্বরব হয়ে উঠে যে যার মতো।

উল্লেখ্য, গত রোববার থেকে অভিযান শুরুর পর মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো অভিযান চালায় করপোরেশন। মহানগর নাট্য মঞ্চের পাসে বসা সেলিম নামের এক হকার বলেন, পর পর তিন দিনের অভিযানে তাদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। তারা যাবেন কোথায়? পরিবার তো আছে। চলতে হবে। চাইালেই তো অন্য কোন ব্যবসায় স্থান করে নিতে পারছেন না।

সেলিম জানায়, ফুটপাতে ব্যবসা করলেও তাদের বেশ কয়েক জায়গার টাকা দিতে হয়। দিতে হয় বিদুৎবিল। দিনপ্রতি ৪০ টাকা। এছাড়া লাইন ম্যান নেন ৫০ টাকা। এছাড়া এককালিন টাকা ও দিতে হয় তাদের। না হলে বসা যায়না। লাইন ম্যানের নাম জানতে চাইলে সে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন আমাদের তো ব্যবসা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ গুলিস্তান, মতিঝিল ও তার আশপাশের সড়কগুলোর ফুটপাত দখল মুক্ত করতে ৫টি হলিডে মার্কেট চালু ও হকারদের তালিকা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

মার্কেটগুলো চালু করতে ১১ জানুয়ারি নগর ভবনে হকার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মেয়র জানান, ১৫ জানুয়ারি রোববার থেকে অফিস চলাকালিন সময়ে রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল ও রমনা এলাকায় কোনো হকার বসতে দেয়া হবে না বলে জানালেও হকার সংগঠন সমূহ তা মানতে নারাজ। করপোরেশনের কাছে তারা ১০ দাবি জানায়। তার অংশ হিসেবে সোমবার মেয়র সাঈদ খোকনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হাসেম কবীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। সেই সাথে পুনর্বাসন না করে হকার উচ্ছেদ না করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে হকার সংগঠনগুলো।

এদিকে, পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে এক সমাবেশ করেছে হকার সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে তারা সিটি করপোরেশনকে হকারদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ও আহব্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার নামে সিটি করপোরেশন যেভাবে তুঘলকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তা অমানবিক। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। এতে হকারদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যার বহিঃপ্রকাশ ইতোমধ্যে ঘটেছে।

অপরদিকে সিটি কর্পোরেশনের অমানবিক কার্যক্রমের প্রতিবাদে যা করা হচ্ছে তাও মেনে নেয়া যায় না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংযমী আচরণ করতে হবে। সমাবেশে হকার নেতারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এমপি, মেয়র, কাউন্সিলর, পুলিশ প্রশাসন ও হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি গঠনের দাবি জানান। যারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে হকার পুনর্বাসনের নীতিমালা প্রণয়ন করবেন।

ডিসিসি সূত্রে জানাযায়, গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন ও রমনা এলাকার হকারদের ব্যবসা করার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে করপোরেশনের পক্ষ থেকে। সাপ্তাহিক কর্মদিবসের দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ফুটপাতে দোকান বসাতে পারবে হকাররা। এছাড়া সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকাল থেকে দোকান বসাতে পারবে তারা।