গাঁজা সেবন করলে আপনার দেহ ও মস্তিষ্কে যা ঘটতে পারে

0
276

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমিস অফ সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিন বিশাল একটি প্রতিবেদন প্রাকাশিত হয়। যাতে গাঁজা সম্পর্কিত আমাদের জানা ও অজানা বিষয়গুলো একত্রিত করা হয়েছে।গাঁজা

প্রতিবেদনটিতে গাঁজা সম্পর্কিত যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে:
১. গাঁজা আপনার মধ্যে ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করবে
গাঁজার সক্রিয় উপাদানগুলোর একটি হলো টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল বা টিএইচসি। যা মস্তিষ্কে খাবার খাওয়া বা যৌন মিলনের ফলে সৃষ্ট ভালো লাগার অনুভূতির মতো অনুভূতি সৃষ্টি করবে।
২. এটি আপনার হৃদপিণ্ডের গতি বাড়াতে পারে
গাঁজা খাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আপনার হৃদকম্পন মিনিটে ২০ থেকে ৫০ বিট বেড়ে যেতে পারে। এটি এমনকি ২০ মিনিট থেকে ৩ ঘন্টা স্থায়ী হতে পারে।
৩. গাঁজা ব্যাথা উপশমেও কাজ করতে পারে
গাঁজাতে আছে ক্যানাবিডিওল বা সিবিডি নামের একটি রাসায়নিক। যা ব্যাথা উপশম এবং শৈশবকালীন মৃগীরোগ লাঘবেও কাজ করতে পারে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যাথা উপশমেও গাঁজা বেশ কার্যকর হতে পারে।
৪. আথ্রাইটিসের ব্যাথা  দূর করতে পারে।
৫. প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ দূর করতে পারে।
৬. গাঁজা মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণেও বেশ সহায়ক হতে পারে।
৭. তবে গাঁজা আপনার মানসিক অনভূতির ভারসাম্যও নষ্ট করতে পারে।
৮. আপনার সময়জ্ঞানও বিকৃত করতে পারে। আপনার মনে হতে পারে সময় খুব দ্রুত বয়ে যাচ্ছে বা ধীর হয়ে এসেছে। কারণ গাঁজা সেবনের ফলে মস্তিষ্কের যে অংশ সময়জ্ঞান নিয়ন্ত্রণ করে সে অংশে রক্ত প্রবাহ কমে আসে।
৯. গাঁজা সেবন করলে আপনার চোখ লাল হয়ে যাবে। কারণ এর ফলে রক্তের শিরাগুলো সম্প্রসারিত হয়।
১০. গাঁজা সেবনের পর অতিভোজন প্রবণতা দেখা দেয়।
১১. আপনি কীভাবে স্মৃতি গড়ে তোলেন সে প্রক্রিয়ায়ও গাঁজা হস্তক্ষেপ বা ব্যাতিচার করতে পারে। কারণ এটি মস্তিষ্কের তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রক্রিয়া পরিবর্তিত করতে পারে।
১২. মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বাড়ায় গাঁজা।
১৩. গাঁজা এমনকি সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
১৪. নিয়মিত গাজা সেবনের ফলে সামাজিক উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায়ও আক্রান্ত হতে পারেন।
১৫. গাঁজা সেবনে ফুসফুসের ক্ষতি হয় কিন্তু তা ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় কিনা তা নিশ্চিত করে বলে যায় না।
১৬. অনেকে মনে করেন গাঁজা সেবন করলে বিশেষ ধরনের ক্রীড়াগত তৎপরতায় উন্নতি ঘটে। রোমাঞ্চকর ক্রীড়া তৎপরতায় গাজার প্রদাহরোধী বা ব্যাথা উপশমকারী উপাদান সহায়ক ভুমিকা পালন করে। তবে একইভাবে গাঁজা আবার নিষ্ক্রিয়ও করে দিতে পারে। কারণ এটি উদ্যম নষ্ট করা বা দেহের প্রাকৃতিক রোগ মুক্তির প্রক্রিয়া ধ্বংস করে।
১৭. গর্ভাবস্থায় গাঁজা সেবনের ফলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার