বাংলাদেশকে বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে ভারত

0
24

সময়ের পাতা : আগের দিন মুরালি বিজয় ও বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড়ে বাংলাদেশের চাপা পড়ার আশঙ্কা ছিল। দ্বিতীয় দিন সেটা সত্যিই হলো। আগের দিনের সেঞ্চুরিকে ডাবল বানানো কোহলির অধিনায়কোচিত ইনিংস বাংলাদেশকে বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। ১৪৮ ওভারে ৬ ‍উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ভারতের সংগ্রহ ৬০৬ রান।koholi

৩ উইকেটে ৩৫৬ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ভারত। ১১১ রানে কোহলি ও ৪৫ রানে আজিঙ্কা রাহানে দিন শুরু করেন। অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দিয়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিচ্ছিলেন তারা। দুইশতাধিক রানের এ জুটির দুই মালিককে সাজঘরে পাঠান বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

দ্বিতীয় দিন আরও ২৩.৩ ওভার টিকে ছিল কোহলি-রাহানে জুটি। সেটা হতো না যদি ৬৩ রানে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে সাব্বির রহমানের হাতে জীবন না পেতেন রাহানে। এর পর ১০ম হাফসেঞ্চুরির ইনিংসটাকে আরও লম্বা করেছেন তিনি। অন্য প্রান্তে কোনও ধরনের অসুবিধা ছাড়াই কোহলি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ দেড়শতাধিক রানের ইনিংস খেলেন।

শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারের এ ২২২ রানের জুটিটি ভাঙেন তাইজুল। শর্ট কভারে দাঁড়ানো মেহেদি হাসান মিরাজ বাঁদিকে লাফিয়ে তালুবন্দি করেন রাহানেকে। ১৩৩ বলে ১১ চারে সাজানো ছিল তার ৮২ রানের ইনিংস। মিরাজের বলে কোহলির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এলডবিডব্লিউর আবেদন করলে আম্পায়ার উইলসন আঙুল তুলে দেন। কিন্তু স্বাগতিক অধিনায়ক রিভিউ নিলে আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয়।

দ্বিতীয় সেশনে ফিরেই কোহলি ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি পান। এর পর আর বেশিদূর যেতে পারেননি। ২০৪ রানে তাইজুলের কাছে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ২৪৬ বলে ২৪টি চারে সাজানো তার দুরন্ত এ ইনিংস।

ব্যাটিং ক্রিজে এর পর জুটি গড়েন রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ঋদ্ধিমান সাহা। ৭৪ রান যোগ করেন দুইজন মিলে। মেহেদি তার ৩৫তম ওভারে অশ্বিনকে (৩৪) ক্যাচ বানান সৌম্য সরকারের।  ৮৬ বলে হাফসেঞ্চুরি করে ঋদ্ধিমান দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন। অপর প্রান্তে আছে রবিন্দ্র জাদেজা।

প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনও সুযোগ পেয়ে উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এদিন রাহানের ক্যাচটি ফেলা ছাড়াও দুটি স্ট্যাম্পিংয়ে ব্যর্থ হন উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। দুইটি সুযোগই নষ্ট হয় তাইজুলের ওভারে। ১৬৫ রানে কোহলি ও ৪ রানে ঋদ্ধিমানকে আউট করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

এর আগে হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দিনে শুরুর সঙ্গে শেষটা মিলেনি। প্রথম ওভারেই উইকেট পাওয়ার আনন্দ মিলিয়ে গেছে মুরালি বিজয়ের সেঞ্চুরি ও চেতেশ্বর পূজারার সঙ্গে তার দেড়শতাধিক রানের জুটিতে। এর পর স্বাগতিক অধিনায়ক বিরাট কোহলির দ্রুতগতির সেঞ্চুরিতে সেই আনন্দ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভারতের স্কোরবোর্ড অনেক শক্তিশালীই হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা থামাতে হলে শুক্রবারের খেলায় বাংলাদেশি বোলারদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ফিল্ডিংও করতে হবে বেশ দাপটের সঙ্গে। আর এ লক্ষ্য নিয়েই হায়দরাবাদ টেস্টে ভারতকে দ্বিতীয় দিন মোকাবিলা করতে নেমেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার মাত্র ২ রানে ভারতের প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। পরে পূজারা ও বিজয়ের ১৭৮ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। পূজারা ৮৩ রানে আউট হন দ্বিতীয় সেশনে। তৃতীয় সেশনের শুরুতে বিজয় (১০৮) সেঞ্চুরি করে উইকেট দেন। তিন সেশনে এ তিনটি উইকেটই ছিল প্রথম দিন বাংলাদেশের প্রাপ্তি। আর ফিল্ডিংয়ে সুযোগ নষ্ট হয়েছে চোখে পড়ার মতো।