এগিয়ে থেকেই দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

0
20

প্রথমদিন ব্যাটসম্যানদের নাজেহাল স্মৃতি পার করে দ্বিতীয় দিন স্বস্তি দিয়েছেন বোলাররা। বৃষ্টির বাগড়ায় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৭ উইকেট তুলে নিয়েছেন সাকিব-রাব্বিরা। প্রতিপক্ষের রান উঠেছে ২৬০।খেলা

তামিম এদিন সাকিবকে দিয়ে প্রথমদিকে বেশি বল করাননি। শেষ বিকেলে আক্রমণে এসে তিনিই মূলত লিডের স্বপ্ন চওড়া করেছেন। নিজেদের দুই ওভারে তিন উইকেট নিয়ে স্বাগতিকরা বিপাকে ফেলেন।

নিজের পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। লো ডেলিভারিতে স্ট্যান্টনারকে বোকা বানান। বল গুডলেন্থ অঞ্চল থেকে ভেতরে বাঁক নেয়। স্যান্টনার ব্যাকফুটে যেয়েও বলের লাইন ধরতে ব্যর্থ হন। রিভিউ চেয়েছিলেন। কিন্তু পার পাননি।

এরপর রাব্বিকে দিয়ে এক ওভার করানোর পর আবার সাকিবকে ডাকেন তামিম। তৃতীয় বলে ওয়াটলিং কাট করতে যেয়ে কানায় লাগান। বল স্ট্যাম্প খেয়ে নেয়। একই ওভারের শেষ বলে দেখার মতো লো আর্ম ডেলিভারি দেন। গ্রান্ডহোম কাভারে ড্রাইভ করতে যান। কিন্তু ব্যাট আর বলের মাঝে এতটাই ফাঁক থাকে যে স্ট্যাম্প চোখের পলকে ছত্রখান হয়ে যায়।

এদিন চা বিরতির পর দুইশ রান পার করে নিউজিল্যান্ড। সেঞ্চুরির পথে থাকা টেইলরকে সাজঘরে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। লেগস্ট্যাম্পের বলে ফ্লিক করতে যেয়ে শর্ট মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিনি। যাওয়ার আগে করে যান ৭৭।

এরআগে ল্যাথামকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। টেইলর-ল্যাথামের গড়া ১০৬ রানের জুটি উপড়ে ফেলেন এই টাইগার পেসার। দলীয় ১৫৩ রানের মাথায় বিপজ্জনক ল্যাথামকে বিদায় করেন তাসকিন। আউট হওয়ার আগে নিউজিল্যান্ডকে ৬৮ রানের ইনিংস উপহার দেন ল্যাথাম।

প্রথম সেশনটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। বলতে গেলে দু’দলই সমানে সমান। লাঞ্চ বিরতির আগে ২৫ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৭০ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড।

রাব্বির হাত ঘুরে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। একটি নয়, পরপর দুইটি উইকেট তুলে নেন। দলীয় ৪৫ রানের মাথায় সাব্বিরের হাতে ‘জীবন’ পাওয়া রাভালকে (১৬) ফেরান। এরপর ২ রান করা দলনেতা কেন উইলিয়ামসনকে বিদায় করেন।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে প্রথমদিন আগে ব্যাট করে সবকটি উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ২৮৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। টাইগারদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৬ রান করেন সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান এসেছে সাকিব আল হাসানের ব্যাট থেকে। এছাড়া নুরুল হাসান সোহানের ৪৭, নাজমুল হোসেন শান্তর ১৮ আর শেষ দিকে রুবেল হোসেনের অপরাজিত ১৬ রান দলের সংগ্রহে অবদান রাখে।

কিউইদের হয়ে বল হাতে চমক দেখান টিম সাউদি। তিনি একাই নেন ৫ উইকেট। ৪টি উইকেট শিকার করেন বোল্ট।

ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে নেই মুশফিকুর রহিম, ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক। মুশফিকের পরিবর্তে টেস্টে অভিষেক হয় নুরুল হাসান সোহানের। ইমরুলের জায়গায় একাদশে ডাক পান সৌম্য সরকার। মুমিনুলের বদলে নাজমুল হোসেন শান্ত। সাদা পোশাকে এটিই তাঁর প্রথম ম্যাচ। পাশাপাশি শুভাশিস রায়ের পরিবর্তে একাদশে ডাক পান পেসার রুবেল হোসেন।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ২৮৯ (৮৪.৩ ওভার) তামিম ৫, সৌম্য ৮৬, রিয়াদ ১৯, সাকিব ৫৯, সাব্বির ৭, শান্ত ১৮, সোহান ৪৭, মিরাজ ১০; বোল্ট ৪/৮৭, সাউদি ৫/৯৪, ওয়াগনার ১/৪৪

নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস ২৬০/৭ (৭১.০ ওভার) : ল্যাথাম ৬৮, টেইলর ৭৭, নিকোলাস ৫৬*, স্যান্টনার ২৯, সাউদি ৪*; তাসকিন ১/৬৪, মিরাজ ১/৫১, রাব্বি ২/৪৮, রুবেল ০/৫৪, সাকিব ৩/৩২